আক্ষরিক অর্থেই তুঙ্গে উঠেছে বঙ্গ বিজেপির কাজিয়া। পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে শেষপর্যন্ত অবস্থা সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হলো স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। মতুয়ারা বিদ্রোহ ঘোষণা করায় বিজেপির ভোট ব্যাংক হাতছাড়া হতে চলেছে বুঝতে পেরেই হস্তক্ষেপ করেন মোদি। নতুন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, দলের সংগঠন ঢেলে সাজানোর পর দেখা যায়, মতুয়া নেতাদের মধ্যে কাউকেই কোন পদ দেয়া হয়নি। এর পরেই বিদ্রোহ শুরু হয় মতুয়া শিবিরে। নেতৃত্বে সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ৫ থেকে থেকে ৬ জন মতুয়া বিধায়ক । এবারে মোট ৮ জন মতুয়া বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির টিকিটে। শুধু মতুয়া নয়, একইসঙ্গে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন বেশকিছু প্রাক্তন নেতাও। যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দায়িত্ব সামলেছেন কিন্তু সম্প্রতি সাংগঠনিক রদবদলে যাদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তারাও একত্রিত হয়েছেন এক ছাতার তলায়। মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির প্রাক্তন সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের বাড়িতে বৈঠকে বসেন আরেক প্রাক্তন সহ-সভাপতি প্রতাপ ব্যানার্জি। সঙ্গে ছিলেন দলের এক প্রাক্তন পর্যবেক্ষক সমীরণ সাহা।
সায়ন্তন বসু সরাসরি বৈঠকে যোগ না দিলেও বিদ্রোহীদের সঙ্গেই যে তিনি আছেন তেমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বিদ্রোহী শিবির থেকেই। সমর্থন রয়েছে রাজু বন্দ্যোপাধ্যারেও। কলকাতার বিদ্রোহী নেতাদের জনসর্থন কার্যত নেই বললেই চলে। সুতরাং তারা যে খুব একটা গুরুত্ব পাবেন না সেটা বুঝতে পেরেই লাইন দিয়েছেন শান্তনু ঠাকুরের পেছনে। কারন শান্তুনু’র হাতে রয়েছে মতুয়া ভোট ব্যাংক। কল্কে পেলে একমাত্র তিনিই দিল্লির কল্কে পেতে পারেন। এই অংকেই বিদ্রোহী মতুয়াদের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন কলকাতার বিদ্রোহীরা। বুধবার ক্যালকাটা ক্লাবে বৈঠকে বসেছিল দুই শিবির। যোগ দিয়েছিলেন আর এক বিদ্রোহী হিরন চ্যাটার্জি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মতুয়া ভোটব্যাংকে ব্যাপক ধস নামতে পারে এই আশঙ্কায় তৎপর হয়ে উঠেছে দিল্লি। খবর পৌঁছেছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি বুধবার ফোন করেন শান্তনু ঠাকুরকে। শান্তুনুকে সরাসরি দেখা করতে বলেন তিনি। জানান এ সমস্যার সমাধানে তিনি প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করবেন ।শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন শান্তনু ঠাকুর। মনে করা হচ্ছে, সংগঠনে যে রদবদল ঘটানো হয়েছে, সেই রদবদল হয়ত এখন আরও একটি রদবদলের অপেক্ষায়।
