ভোট ব্যাংকের অংকে সিলেবাস দূষণ উদ্বেগজনক

|

অম্বর রায় চৌধুরী

পৃথিবীর সমস্ত ভাষাই পাল্টে পাল্টে গেছে। একভাষা থেকে অন্য ভাষায় যোগ হয়েছে শব্দ। ভাষা হয়েছে সমৃদ্ধ। কিন্তু এই পরিবর্তনটা ঘটিয়েছে প্রতিটি ভাষা গোষ্ঠী, তার আপন চাহিদা মোতাবেক। এভাবেই পুস্ট হয় শব্দ কোষ। সম্প্রতি বাংলার ক্ষেত্রে বিষয়টা হয়ত একটু ভিন্ন হয়ে গেছে। এখানে একটি ভাষাগোষ্ঠী যারা একটি জাতির পরিচয় গ্রহণ করে, সেই জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে থাকা নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় অংশ পরিকল্পিতভাবে নিজেদের ভাষায় যুক্ত করে চলেছে বিদেশি শব্দ।

একই জাতির অন্য অংশটি এই প্রক্রিয়ায় আদৌ যুক্ত নয়। যারা পাল্টে যাচ্ছে তারা ভাষার চাহিদা মেনে পাল্টাচ্ছে না। তারা পোশাকে আশাকে খাদ্যাভ্যাসে এবং চিরাচরিত সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের পরিবর্তন ঘটিয়ে তার নতুন একটা পরিচয় তৈরি করতে চাইছে। বিতর্কটা এখানেই, যারা এই পরিবর্তন চাইছে না, তাদের ওপর কি সেটা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? বিতর্কটা তৈরি হতো না, যদি বাচ্চাদের পাঠ্যপুস্তকে সেই বিজাতীয় শব্দগুলি যোগ না করা হতো।

নতুবা কে কী খাবে, কে কী পরবে, কে কী ভাষায় কথা বলবে সেটা তার বা তাদের স্বাধীনতা, এখানে বিতর্কের কোনও অবকাশ নেই। একারণেই রামধনুর পরিবর্তে রং ধনু কিংবা আকাশি রঙের বদলে আসমানি রং লেখা হয় তখন প্রশ্নতো উঠবেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা, তাদের রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম। সেই দেশের সরকার তাদের পাঠ্য পুস্তকে কী করবে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।

এই রাজ্যে কোনও একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে খুশি করতে যদি স্কুল পাঠ্য বইয়ে এই ধরনের পরিবর্তন আনা হয় তাহলে সেটা যথেষ্ট উদ্বেগের। এমনিতেই রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামো লাটে উঠেছে। অযোগ্য লোকেরা টাকা দিয়ে যাতে শিক্ষক হয়ে রাজ্যের শিক্ষাটাকেই চুলোয় পাঠাতে পারে সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এখন পিপিপি মডেলের হাত ধরে ব্যবসায়ীদের ঢোকানোর পরিকল্পনা হচ্ছে। এই অবস্থায় সিলেবাসে দূষণ ঘটলে চরম বিপর্যয় অনিবার্য।( লেখক একজন প্রাক্তণ শিক্ষক। এই লেখায় যাবতীয় মতামত তাঁর নিজস্ব)

আরও পড়ুন