কান্দাহার কান্ড অতীত, প্রকল্পের কাজ করুক ভারত, বার্তা পাঠালো তালিবান

|

রানার প্রতিবেদন : কান্দাহার বিমান অপহরণের ঘটনা এখনও দগদগে ক্ষত হয়ে আছে ভারতবাসীর কাছে। আলকায়েদা জঙ্গিরা ভারতীয় বিমান অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল কান্দাহারে। সেখানে আলকায়দাকে পূর্ন মদত দিয়েছিল তালিবানরা। এই তালিবানরাই হুমকি দিয়েছিল, বিমান যাত্রীদের মুক্ত করতে কান্দাহারে ভারতকে কোনও ধরণের সেনা অভিযান করতে দেবে না তারা।

শেষে তিন কুখ্যাত জঙ্গিকে ভারতের জেল থেকে ছেড়ে দেবার পর, যাত্রীদের মুক্ত করেছিল তালিবানরা। আলকায়দার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তালিবানদের সেই ভারত বিরোধী অবস্থান ভোলা সম্ভব নয় দিল্লির। এই কারনেই তালিবানের পক্ষ থেকে ভারতকে আশ্বস্ত করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের মাটি থেকে কোনও বিদেশি রাষ্টের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্র অনুমোদন করা হবে না।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চায় তালিবান। আফগানিস্তানে ভারতের যে সমস্ত প্রকল্পের কাজ চলছে সেগুলো কাজ দিল্লি সম্পুর্ন করুক এটাই চায় তালিবান। তাদের বক্তব্য, এই প্রকল্পগুলি যেহেতু আফগান জনগনের স্বার্থে ফলে বিরোধিতার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

কুখ্যাত কান্দাহার কান্ড | Infamous Kandahar Episode

কুখ্যাত কান্দাহার কান্ড আজও দুঃস্বপ্নের মত তাড়া করে ভারতকে। ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস অপহরণ করে আলকায়দা জঙ্গিরা। বিমানটি নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছিল দিল্লির উদ্দেশ্যে। কাঠমান্ডুর আকাশ অতিক্রম করতেই পাঁচ অপহরণকারী বিমানটি নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয়। বিমানটি প্রথমে তারা অমৃতসর বিমানন্দরে নামায়।

সেখানে জ্বালানি ভরে বিমান নিয়ে উড়ে যায় দুবাইতে। বিমানটি দুবাই পৌঁছে অসুস্থ এবং বৃদ্ধ ২৭ যাত্রীকে মুক্ত করে দেয়। সেইসময় যাত্রীদের কেউ কেউ মুক্তির দাবি জানালে, জঙ্গিরা ছোড়া নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় একজনের। বেশ কয়েকজন জখম হন। বিমান নিয়ে এরপর জঙ্গিরা উড়ে যায় তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে। বিমানটিকে কান্দাহার বিমানবন্দরে নামানো হয়।

বিমানবন্দর ঘিরে নেয় তালিবান কমান্ডোরা। তালিবান বাহিনী সাফ জানিয়ে দেয় তারা ভারতকে কান্দাহার বিমানবন্দরে কোনও অভিযান করতে দেবে না। কূটনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য তৎকালীন নিরাপত্তা বিষয়ক অধিকর্তা অজিত দোভাল আসেন কান্দাহারে। তিনি দিল্লিতে বার্তা পাঠান, আলোচনায় সমস্যা মিটবে না, কারন তালিবানদের নিয়ন্ত্রণ করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কর্তারা।

শেষপর্যন্ত অপহরণকারীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় সরকার। তিন কুখ্যাত জঙ্গি নেতা মাসুদ আজহার, ড্যানিয়েল পার্ল হত্যাকান্ড এবং ২০০৮ এর মুম্বাই আক্রমণের মূল সরযন্ত্রকারী ছিল এই মাসুদ আজহার। এছাড়া আরও দুই জঙ্গি আহমেদ ওমর এবং মুস্তাক আহমেদ আজহারকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপরই মুক্তি পায় ভারতীয় বিমান যাত্রীরা। বিশেষ বিমানে তাদের নিয়ে আসা হয় দিল্লি।

আফগানিস্তানে ভারতীয় প্রকল্প | Indian Projects in Afghanistan

মোট ২৬০০০ কোটি টাকা খরচ করে আফগানিস্তানে একগুচ্ছ প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কাবুলের নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ। ২০১৬ সালে এই কাজ শেষ হবার পর তা উদ্বোধন করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকলটি হলো।

জারাঞ্জ-দেলারাম হাইওয়ে | Zaranj-Delaram Highway

বিপুল অর্থ খরচ করে ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত ২১৮ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছে ভারত। আফগানিস্তানের সঙ্গে স্থলপথে যোগাযোগের জন্যই এই রাস্তা তৈরি করা হয়। কারন, পাকিস্তান তাদের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না। এই কারনে ইরান হয়ে পৌঁছনোর চেষ্টা।

চাবাহার সমুদ্রবন্দর সংস্কার এবং আধুনিকিকরনের দায়িত্ব নিয়েছে ভারত। শর্ত হলো, ভারত এই বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। এই বন্দর থেকে সড়কপথে আফগানিস্তানে ঢোকার জন্য এই বিশাল রাস্তা তৈরি করে ভারত।

সালমা বাঁধ | Salma Dam

তালিবানদের লাগাতার আক্রমণ সত্ত্বেও এই বাঁধ নির্মাণের কাজ করছে ভারত। ২০১৬ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

প্রাসাদ সংস্কার | Palace Renovation

আফগানিস্তানের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এই প্রাসাদ সংস্কার করেছে ভারত। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এই প্রাসাদ থেকেই পরিচালিত হতো আফগান বিদেশ মন্ত্রকের কাজকর্ম।

বিদ্যুৎ পরিকাঠামো নির্মাণ | Construction of Electrical Infrastructure

বাঘলান থেকে উত্তর কবুল পর্যন্ত হাই ভোল্টেজ ডাইরেক্ট কারেন্ট লাইন স্থাপন করার কাজ এখনও চলছে।

সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প | Social Development Projects

আফগান জনগনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ১০০ টি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল দিল্লি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাতুত বাঁধ। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কাবুল শহরের অন্তত ২০ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে পরিশ্রুত পানীয় জল।

আরও পড়ুন