রানার প্রতিবেদন : ১৯৮৯ সালের কথা। ‘উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজ’ ( Weekly World News ) নামে এক পত্রিকার একটা খবরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল বিশ্বে। কী সেই খবর? ১৯৫৪ সালে হারিয়ে যাওয়া বিমান ফিরে এসেছে ৩৫ বছর পরে। বিমানের ভিতরে সব যাত্রী ও ক্রু ততদিনে হয়ে গিয়েছে নরকঙ্কাল! সেই নরকঙ্কাল নিয়েই আকাশে ঘুরে বেরিয়েছে বিমান! জানা যায়, ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি থেকে ব্রাজিলের উদ্দেশে উড়েছিল ফ্লাইট ৫১৩ ( Flight 513 )।
পোর্তো আলেগ্রেতে পৌঁছতে তার ১৮ ঘণ্টা লাগার কথা । কিন্তু আচমকাই সব যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেল। অনেক চেষ্টা করেও কোনও খোঁজ মিলল না। বিমান তখন আটলান্টিক মহাসাগরের ( Atlantic Ocean ) উপরে দিয়ে উড়ছিল। ম্বভাবতই মনে করা হল বিমানটি ভেঙে পড়েছে। অনুসন্ধানকারী দল গেল। ফ্লাইট ৫১৩-র কিছুই মিলল না। বছর দুয়েক পরে ব্যবসা বন্ধ করে দিল সান্টিয়াগো এয়ারলাইন্স ( Santiago Airlines )। এদেরই ছিল ওই বিমান।
বন্ধ হয়ে গেল ফ্লাইট ৫১৩-র তল্লাশি অভিযানও। ১৯৮৯ সালের ১২ অক্টোবর এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলাররা দেখলেন আকাশে উড়ছে এক অচেনা বিমান। কিন্তু যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কেউই কোনও সাড়া দিচ্ছে না। এরপর আকাশ থেকে নেমে এলো বিমানটি। বিমানকর্মীরা বিমানটির দরজা খুলে থ। বিমানের ভিতরে যাত্রীদের আসনে বসে রয়েছে নরকঙ্কালগুলি। ৯২টি নরকঙ্কাল। ৮৮ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু।
পাইলট ক্যাপ্টেন মিগুয়েল ভিক্টর কারির কঙ্কালও আছে। ভুতুড়ে বিমানটিকে ততক্ষণে চিনতেও পেরেছেন বিমান কর্তৃপক্ষ। এ সেই ৩৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সান্টিয়াগো এয়ারলাইন্সের বিমান। তাহলে এত বছর ধরে একটানা আকাশে উড়েছে এই ভূতের দল? এই খবর নিয়ে সারা দুনিয়ায় সাড়া পড়ে গেলেও বাস্তবে সেটা ছিল একেবারেই গাঁজাখুরি।
‘উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজ’ এমন আজগুবি খবর হামেশাই ছাপত। ১৯৮৫ সালেও এমন গাঁজাখুরি খবর ছেপেছিল তারা। সেবারের নায়ক ফ্লাইট ৯১৪। সেটি নাকি নিরুদ্দেশ হওয়ার ৩৭ বছর পরে ফিরে আসে। আসলে ১৯৫৪ সালে ওই নামের কোনও বিমানের নিরুদ্দেশ হওয়ার খবর কেউ জানতই না। কেননা এমন ঘটনাই তো ঘটেনি।
