শঙ্কর মন্ডল
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অবশ্যই শুধু বাংলা নয়, সমগ্র দেশের গর্ব। আর এর জন্য উপযুক্ত তথ্য পেশ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে হয়েছে, এটা কি অস্বীকার করা যায়? কিন্তু এটা রাজনীতির বিষয় নয়, ব্যাপক দুর্নীতিতে জর্জরিত জনপ্রিয়তায় ভাটা পরা মমতা ব্যানার্জি এই স্বীকৃতিকে এমনভাবে প্রচার করতে চাইলেন যেন মনে হচ্ছে উনি ছিলেন বলেই এই স্বীকৃতি এসেছে।
আসলে মূর্খ তৃণমূল জানেই না এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।আর স্বঘোষিত গুণী মমতা ব্যানার্জি ও তার চটি চাঁটা তল্পিবাহকরা এমনভাবে তাদের নিজেদের পাপকে ঢেকে দিতে চাইছে বা বলা ভাল ফোকাস ঘুরিয়ে দিতে মিছিল করে যে কাণ্ড ঘটালেন তা একপ্রকার রাজনীতির রং লাগানো হল, এটা বলাই যায়।সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের দুর্গা প্রতিমা উপহার দিলেন সঙ্গে কিছু বই, এবং তার মধ্যে বিখ্যাত কবিতা এপাং , ওপাং,ঝপাংও আছে।
আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাননীয়া গাইছেন টাকডুমা ডুম, আর ডিএ না পেয়ে, চাকরী না পেয়ে, মিড ভে মিলের খাবার না পেয়ে মানুষ আজ আতঙ্কগ্রস্ত।আসলে একশ্রেনীর লুম্পেনদের নিজের কাজে লাগানোর জন্য ঐ লুম্পেন সম্বলিত ক্লাবগুলোকে খুশি করতেই এখন ২৫৮ কোটি টাকা খরচ করতে চাইছেন মাননীয়া মূখ্যমন্ত্রী, এমনকি আগামী দিনে মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানোর ব্যবস্থা করে বিদ্যুতের ছাড় দিচ্ছেন পূজা কমিটিগুলোকে।
যাইহোক আর একটা বিষয় অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, তাই আলোচনা করতেই হচ্ছে, সেটা হল বিজেপি নেতাদের আলটপকা কথা বলার অভ্যাস এখনো অব্যাহত।যেমন দিলীপ ঘোষ তো আছেই কিন্তু সুকান্তর মুখ থেকে এরকম বারবার ভুল বক্তব্য যথেষ্ট দুঃখজনক।
সেই সঙ্গে অনুপম হাজরার প্রকাশ্যে দলীয় নেতার সমালোচনা, যা বিজেপিকে ক্রমশ পিছিয়ে দিচ্ছে, আর এই ফাঁকা জায়গায় উঠে আসছে সিপিএম, কারণ মণ্ডল, জেলা, বুথ সর্বত্র অযোগ্য, লোকেদের নিয়োগ বিজেপির স্বাভাবিক ঘটনা তো বটেই, তার সঙ্গে এখন সহযোগিতা করার জন্য যারা হিন্দুত্ব নিয়ে বা অন্য কোন সামাজিকসংগঠনের ব্যানারে কাজ করছে, তাদেরও অধিকাংশ মাথা দিয়ে জাঙ্গিয়া পরেন।
তাই বাংলার মানুষের ভবিষ্যত অন্ধকার, একদিকে জিহাদীদের মদতপুষ্ট তৃণমূল, যারা ব্যাপক দুর্নীতিতে নিয়োজিত হয়ে কেবল কোটি কোটি টাকা লুটতেই ব্যাস্ত, আর অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদীদের অযোগ্যতা, বিশেষ করে বিজেপির দুর্বল নেতৃত্বের সুযোগে যারা উঠে আসছে, মানে সিপিএম, তারা জিহাদীদের পুরনো বন্ধু, কারণ এদের আদর্শগত দিকটাই হল এক।
(লেখক: সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্টের সভাপতি)
