রানার প্রতিবেদন : প্ৰেমের কোনও বয়স হয় না, স্থান, কাল, পাত্ৰ দেখেও আসে না। কিন্তু জাপানের ছবিটা একটু ভিন্ন। সেখানে প্ৰাপ্তবয়স্ক মহিলাদের প্ৰায় ৬০ শতাংশরই প্ৰেমে প্রবল অনীহা, আর এর কারণটা হল কৰ্মক্ষেত্ৰে এত বেশি চাপ তাঁদের যে, তাঁরা প্ৰেম করতে বা প্ৰেমের জন্য সময়ই বের করতে পারেন না। সম্প্ৰতি হওয়া একটি সমীক্ষার ফলাফল থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে।
জাপানে বৰ্তমানে কৰ্মজগতের যা চিত্ৰ, সেখানে মহিলাদেরও পুরুষদের মতো সমান কাজের চাপ। আর সারাদিনের ক্লান্তির পর বাড়িতে এসে গা এলিয়ে দিতে, কিংবা কোনও সোপ অপেরা দেখে একটু বিনোদনের স্বাদ পেতেই পছন্দ করছেন মহিলারা। সে-সময় সেজেগুজে প্রেম করতে যাওয়াতে তাঁদের প্ৰবল আপত্তি। তাহলে তো সৰ্বক্ষণ যেখানে থাকা হয়, সেই অফিসের কলিগের সঙ্গেই প্ৰেম করার সম্ভাবনাটা সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠছে।
তাতেও কারও উৎসাহ নেই, তাঁদের যুক্তি অফিসে যদি প্ৰেম করা হয়, তাহলে কাজের মূল্যবান সময় নষ্ট হবে। আর এসব জাপানি মহিলাদের কাছে যেরকম অশান্তি আর দুশ্চিন্তার কারণ, তেমনি প্ৰচণ্ড বিরক্তিকর আর ক্লান্তিকরও। সেই সমীক্ষার ফলাফল থেকে আরও একটি চমকপ্ৰদ তথ্য উঠে এসেছে; অনেকেই ডেটিংয়ে গিয়ে অপেক্ষা করতে করতে রেস্তোরাঁ, পাৰ্ক ইত্যাদি জায়গায় ঘুমিয়ে পড়েন, আর তার কারণ হল সারাদিনের কাজের ক্লান্তি।
প্ৰতি চারজনের মধ্যে একজন মহিলা এই বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন। আবার অনলাইন ডেটিং সাইট লাভলি মিডিয়ার পৰ্যবেক্ষণ জানাচ্ছে যে, ক্ৰমাগত বা ঘন ঘন ডেটিং করাকে এক শ্ৰেণির মহিলা শুধুমাত্ৰ সময় নষ্ট বলে সেখান থেকে সরে আসছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। তাঁদের কাছে ডেটিং করে, নিজের সঙ্গে ম্যাচ করিয়ে আদৰ্শ স্বামী খোঁজা আদৌ লক্ষ্য নয়, এজন্য তাঁরা পরিবারের উপর নিৰ্ভরশীল।
তাঁরা মনে করেন, কোনওক্ৰমে একটা বিয়ে করে নিয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়াটাই একমাত্ৰ উদ্দেশ্য জীবনের। কিন্তু আশির দশকের দিকে যদি আমরা একবার ফিরে তাকাই, তাহলে পুরো চিত্ৰটাই ছিল বিপরীত। সেখানে কুড়ির কোঠায় বয়স এমন যুবতীদের প্ৰায় ৭০ শতাংশই কোনও না কোনও সম্পৰ্কে জড়িয়েছিলেন। এখন তা কমে তলানিতে এসে ঠেকেছে।
সমীক্ষা বলেছ, কাজের সময় কমিয়ে, মহিলাদের পরিচিতদের সঙ্গে লং ড্ৰাইভে পাঠিয়ে, সন্তানের জন্মের পর মা-বাবাদের একসঙ্গে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি কাটানোর মধ্যে দিয়েই ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে প্ৰেমের ইচ্ছা জেগে উঠবে। সেজন্য প্ৰত্যেককেই সৰ্বক্ষণ কাজের চাপ এই বিষয়টা মাথা থেকে সরিয়ে একটু অন্যভাবে জীবনটাকে দেখতে হবে এবং দরকারে মনোবিদেরও সাহায্য নিতে হতে পারে।
