সুস্থ জীবন কাটানোর সহজ উপায়, আপনার জন্য রইলো ১০টি টিপস

|

রানার প্রতিবেদন : বেশিরভাগ মানুষ কোনও উৎসব – অনুষ্ঠানে অনেকটা বেশি খেয়ে ফেলেন। হয়তো বা তাঁরা উৎসবটাকে ভূরিভোজ করার জন্যে একটা উত্তম উপলক্ষ্ হিসেবে বেছে নেন। কয়েকটা দিন প্রচুর মিষ্টি এবং তেলে ভাজা খেতে পেরে রসনার দুঃখ মেটান। আবার অনেকে আছেন তাঁরা সবসময়ই বেশি খেতে অভ্যস্ত। তাঁরা আবার ঝালমশলাযুক্ত খাবার খেতেও পছন্দ করেন। তবে এ-ধরনের খাদ্য বেশি খেলে মানুষের পাকস্থলীর ভিতরের আবরণে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।

এতে দেহের ভিতরে বেশি উত্তাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং অন্যান্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সুস্থ থাকার প্রচেষ্টাকে একটা ভ্ৰমণের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, তবে এই প্রচেষ্টার কোনও শেষ নেই। ভালো স্বাস্থ্য আমাদের সকলেরই হতে পারে, আর এই ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার ব্যাপারটা আমাদের নিজেদের মধ্যেই আছে। সেজন্য কোনও ওষুধ না খেলেও চলে। কারণ আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই আছে প্রাণ, আর সেই প্রাণের কাছেই আছে নিজেকে সুস্থ রাখার উপায়।

আমাদের যা কিছু করতে হবে, সেটা হচ্ছে, নিজেদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারণের পথকে সংশোধন করতে হবে। আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারণের পদ্ধতির মধ্যে সামান্য কিছু পরিবৰ্তন আনতে পারলেই, আমাদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্যে একটা বিরাট পদক্ষেপ দেওয়া হবে। তারপরে ধীরে ধীরে আমাদের স্বাস্থ্য এবং আমাদের চেহারার দীপ্তি ফিরে আসতে শুরু করবে।

নীচে স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্যে ১০টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হলো :

১) প্রতিদিন এক গ্লাস করে সবজির জুস খেতে শুরু করুন। গাজর, আমলা এবং অন্যান্য সবজির রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে পান করুন।এই জুসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উৎসেচক থাকে যা আমাদের দেহের বিষাক্ত জিনিস বার করে দেয় এবং হজমে সাহায্য করে।
২) ঠিকঠাক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে, যা আমাদের দেহস্থ পেশিকে মেরামত করে।
৩) আমাদের রোজকার খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে ফল, সবজি, বাদাম এবং বীজ-শস্য কারণ এগুলিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যেমন ভিটামিন সি এবং ই, বিটা-কেরোটিন ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে থাকে।
৪) নিজের দেহের গঠন ঠিক রাখতে চেষ্টা করুন। কারণ এটা একটা খুব উত্তম পন্থা নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্যে এবং নিজেকে ভালো দেখাবার জন্যে।
৫) সপ্তাহে একটা দিন ভারী কিছু খাবেন না। তার বদলে খেয়ে নিন কাঁচা সবজির রস। নতুবা এমনটাও করতে পারেন মাসে একনাগাড়ে তিনদিন ভারী কিছু না খেয়ে শুধু কাঁচা সবজির রস এবং ফলমূল খেয়ে কাটিয়ে দিন। ভেতরের সব বিষাক্ত জিনিস বেরিয়ে যাবে। মাথা ধরা, হজমের গোলমাল, অ্যালাৰ্জি এসব সমস্যা একেবারে সেরে যাবে।
৬) চিনি অতিরিক্ত না খাওয়াই উচিত। প্রক্ৰিয়াজাত খাদ্য, পরিশোধিত খাদ্য, ভাজা খাদ্য ইত্যাদি না খাওয়াই উচিত। কারণ এইসব খাদ্য অতিরিক্ত গ্রহণ করলে চেহারায় বয়সের ছাপ খুব তাড়াতাড়ি পড়ে যায়।
৭) মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্ৰণে রাখুন। এটা সকলেই জানেন, মানসিক অশান্তি থেকেই মানুষ অসুস্থ হয়। মানসিক চাপ বেশি থাকলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে যায়।
৮) নিজের পরিবারের সকলের সঙ্গে, বন্ধুবান্ধব, পোষা জন্তুর সঙ্গে গড়ে তুলুন ভালোবাসার আর মমতার সম্পৰ্ক। কারণ মনে ভালোবাসা, স্নেহ, দয়া ইত্যাদি থাকলেই দেহ হয় শক্তিশালী এবং নিরোগ।
৯) এটা ঠিক করে নিন যে, আপনাকে সাপ্তাহে অন্তত ৫ বার ব্যায়াম করতে হবে। অন্তত ৩০-৪০ মিনিট ধরে। যোগব্যায়াম হজম শক্তি বাড়ায়। দেহের মধ্যে সজীব উপাদানের রাসায়নিক পরিবৰ্তনের পদ্ধতিকে ত্বরান্বিত করে।
১০) ধূমপান করবেন না। ধূমপান স্বাস্থ্যের ভয়ংকর ক্ষতি করে দেয়। স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখতে আপনাকে খাওয়া-দাওয়া করতে হবে খুব বাছবিচার করে। জীবনধারাতেও আনতে হবে পরিবৰ্তন। স্বাস্থ্য ভালো করার অৰ্থ এই নয় যে আপনি দেহে জমিয়ে তুলবেন বাড়তি মেদ। তবে স্বাস্থ্য ভালো করে তুলতে প্রথম পদক্ষেপ দিতে হলে আপনাকে দেহের ওজন স্বাভাবিক করে তুলতে হবে। কারণ দেহের ওজন কম থাকাও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।

আরও পড়ুন