সেটিং নয় ব্যাটিং বোঝাতে কালীঘাটে হাত বাড়াচ্ছে বিজেপি

|

রানার প্রতিবেদন : দিল্লিতে মোদি-মমতা বৈঠকে কোনও সেটিং হয়নি। মমতা সম্পর্কে কোনও দুর্বলতাও নেই গেরুয়া শিবিরে। এই বার্তা দিতে এখন মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, সেটিং নয় বরং ফ্রন্ট ফুটে ব্যাটিং করার ইঙ্গিত আসছে দিল্লি থেকে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে রাজ্য নেতৃত্বের।

এতদিন শুধু যা কথার আক্রমণে আটকে রাখা হয়েছিল, এবার সেটাকে আইনি পথে আক্রমণ শানানোর চেষ্টায় নেমেছে তারা। গত ২৩ আগস্ট দলের লিগ্যাল সেলের সঙ্গে বৈঠক ছিল রাজ্য নেতৃত্বের। সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সহকারী পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য হাজির ছিলেন। সেখানেই ওঠে কালীঘাটের দুর্নীতির প্রসঙ্গ। ব্যানার্জি পরিবার কিভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছে গত দশ বছরে তানিয়ে রাজনৈতিক সভা-সমিতি এবং বিতর্কের আসর গরম হলেও আইনি লড়াইয়ে কেউ যায় নি এখনও।

বিজেপির লিগ্যাল সেল কোমর বাঁধছে এবার। শুরুতে তারা নিশানা করছেন কাজরি ব্যানার্জিকে। যিনি গত পুর ভোটে কালীঘাট থেকে কাউন্সিলার হয়েছেন। তিনি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর ভাতৃবধূ। যিনি ভোটে দাঁড়াবার জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম ভর্তির সময় নিজেকে গৃহবধূ হিসাবেই পরিচয় দিয়েছেন। বিজেপির লিগ্যাল সেলের কাছে তথ্য এসেছে, এই গৃহবধূ মাত্র কিছু দিনের মধ্যেই কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অবৈধ উপায়ে।

তারা বলছেন, বাইপাসের ধারে অভিদীপ্তা আবাসনে একটি সরকারি ফ্ল্যাট তিনি কিনেছেন ১৫ লক্ষ টাকায়। সরকার এই ফ্ল্যাটটি বিক্রির জন্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করে এটি ৬৫ লক্ষ টাকায় বিক্রির সিধান্ত নিয়েছিল। সেই সিধান্ত পাল্টে ১৫ লক্ষ হয়ে গেল কারন ক্রেতার নাম কাজরি ব্যানার্জি। একইভাবে ভবানিপুরে একটি সরকারি দালান বিক্রি হয়েছে। ক্রেতার নাম কাজরি ব্যানার্জি।

দালানটি বিক্রির জন্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ কোটি টাকা। অথচ বিক্রি হলো ১কোটি ২০ লক্ষ টাকায়। কারন, ক্রেতার নাম ঠিকানা। লিগ্যাল সেলের এক নেতা বলেন, সব কাগজপত্র হাতে চলে এসেছে। দ্রুত মামলার পথে যাচ্ছেন তাঁরা। লক্ষ একটাই, শুরুটা হোক। আইনি জাল ছড়াক। ধীরে ধীরে সেই জালে জড়িয়ে পড়বে ব্যানার্জি পরিবারের একের পর এক সদস্য। এমনটাই আশা গেরুয়ার আইনি শাখার।

আরও পড়ুন