সংরক্ষণের উদ্দেশ্য লঘু হবে নতুন সিদ্ধান্তে

|

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর জন্য দশ শতাংশ সংরক্ষণের রায় বিস্ময়কর, যা আদৌ সমর্থনযোগ্য নয়। যদি “অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে” থাকার বর্তমান সংজ্ঞাকেই অপরিবর্তিত রাখা হয়, তাহলে এই রায় উপযুক্ত বিবেচনার ধারে কাছে নয়। বর্তমান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর(OBC) লোকেরা এই সংরক্ষণের সুবিধা পান।

অর্থাৎ এই জনগোষ্ঠীতে যাদের পরিবারে বছরে রোজগার ৮ লক্ষ টাকার কম তারাই সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। এই সিধান্ত সমর্থনযোগ্য। কারন, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী একটি পরিবারের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় মদতের দরকার হয় না। ব্যতিক্রম এসসি-এসটি ,তাদের ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা হয় না। এবার অর্থনৈতিক মাপকাঠি না পাল্টে জেনারেল কাস্টকেও যদি সংরক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হয় তাহলে সেটা হবে এক নিছক রসিকতা।

আদালতের রায় অনুযায়ী বছরে ৮ লক্ষ টাকার কম রোজগেরে জেনারেল কাষ্টের সকলেই দশ শতাংশের আওতায় আসবেন। এই রায়ের ফলে ভারতের প্রায় সমস্ত মানুষই সংরক্ষণ নামক বিশেষ সুবিধার আওতায় চলে আসবেন। কারন প্রায় সমস্ত মানুষের আয় বছরে ৮ লক্ষ টাকার নিচেই। সরকারি হিসেবেই দেখা যায় এরকম মানুষের সংখ্যা দেশে প্রায় ৯৯ শতাংশের বেশি। এটাই যদি তথ্য হয় তাহলে এই সংরক্ষনের কোনও মূল্য থাকে না। কারন সকলকেই যদি সংরক্ষেনের আওতায় আনা হয়, তাহলে এর গুরুত্ব এবং উপযোগীতাই লঘু হতে বাধ্য।

এই নিয়মের কবলে প্রকৃত আর্থিক সংকটে থাকা মানুষরাই দিনের শেষে সেই বঞ্চনার তালিকাতেই থেকে যাবেন। বছরে সাত লক্ষ ৯০ হাজার টাকা রোজগেরে পরিবারের সদস্যের সঙ্গে সুবিধা পাবার লড়াইয়ে তিনিও থাকবেন যার রোজগার বছরে হয়ত এক লক্ষ টাকার কম। সাত লক্ষ টাকা রোজগেরে পরিবারের একজন সদস্য বেড়ে ওঠার জন্য যে পরিকাঠামো পান তারসঙ্গে বছরে এক লক্ষ বা তার কম টাকা রোজগেরে পরিবারের কোনো তুলানাই চলে না।

আর এই সংখ্যাটাও বিপুল এবং সঙ্কটও ভয়ঙ্কর। এদের একাসনে বসিয়ে বিবেচনা যুক্তি-বুদ্ধির পরিধির বাইরে। এই অবস্থায় সরকার কিংবা আদালতের উচিৎ জেনারেল কাষ্টের জন্য সংরক্ষণের সুবিধা চূড়ান্ত করার আগে এই জনগোষ্ঠীর আর্থিক মাপকাঠি নতুন করে নির্ধারণ করা । নতুবা সংরক্ষণের নামে বিভ্রান্ত করা ছাড়া এর অন্য কোনও অর্থ দাঁড়াবে না

আরও পড়ুন