গরিব কৃষকের ব্যাংক ঋণের টাকা গিলে খাচ্ছে কর্পোরেট সংস্থাগুলি

|

রানার প্রতিবেদন: কৃষি ঋণের নামে ব্যাপক দুর্নীতি সামনে এল right to information(RTI) এর হাত ধরে। যে তথ্য সামনে আসার পরে কার্যত চক্ষুচড়কগাছ সকলের। দেখা যাচ্ছে কৃষি ঋণের জন্য বরাদ্দ অর্থের গোটাটাই গিলে খাচ্ছে কর্পোরেশন স্থানগুলি। অথচ গরীব কৃষক ঋণ পাচ্ছেন না। তাদের হাত পাততে হচ্ছে মহাজনের কাছে। চড়াহারে ঋণ নিয়ে, শোধ করতে না পেরে গলায় দড়ি দিচ্ছেন তাঁরা। অথচ তাদেরই টাকা আত্মসাৎ করে ক্রমাগত ফুলেফেঁপে উঠছে কর্পোরেট সংস্থাগুলি।

একটি ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে আরটিআই করা হয়েছিল যার উত্তর দিতে গিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে ২০১৫ সালে মোট ৬০৪টি সংস্থাকে ৫৩১৪৩ কোটি টাকা কৃষি ঋণ দিয়েছে। ২০১৬ সালে মোট৬১৫ টি সংস্থাকে একইভাবে ৫৮৫৬১ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সুদের পরিমাণ মাত্র চার শতাংশ। এই টাকা পাওয়ার কথা গরিব কৃষকের। কিন্তু সেই টাকা গিলে খেতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কর্পোরেট গুলি। তার কারণ ,ইচ্ছে করেই আইনের ফাঁকফোকর রাখা হয়েছে যাতে, সংস্থাগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া যায়। আইনে বলা হয়েছে কৃষি ঋণ পেতে পারেন তারাও যারা কৃষি পণ্য বিপণন এবং গুদাম এই দুই বিষয়ে সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ফলে মাত্র ৪ শতাংশ হারে ব্যাপক পরিমাণে ঋণ নিচ্ছে রিলায়েন্স ফ্রেশ। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো মুম্বাইয়ের সবচেয়ে ধনী এলাকায় মোট ১২ টি সংস্থাকে ৫৭ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকারি ব্যাংক ।

মুম্বাইয়ের সবচেয়ে ধনী এলাকায় ঋণ গ্রহীতারা অবশ্যই গরিব চাষি নন । অথচ মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ এলাকার তুলো চাষীরা চরম সংকটে পড়ে দিনের-পর-দিন ঋণের জন্য আবেদন জানিয়ে তা পাচ্ছেন না। তাদেরকে হাত পাততে হচ্ছে মহাজনদের কাছেই। ফলে দেশ জুড়ে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা আজও থামানো যায়নি।

আরও পড়ুন