সরকারি তথ্যে ভুল, ভারতে করোনার বলি দশগুন বেশি, বলছে গবেষণা রিপোর্ট

|

রানার ডেস্ক : ভারতে করোনায় ( Corona ) মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশিত সরকারি সংখ্যার তুলনায় ১০ গুণ বেশি হতে পারে। সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট নতুন এক গবেষণা ( Research ) প্রতিবেদনে দাবি করেছে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ভারতে ৩০ থেকে ৪৭ লক্ষ মানুষ করোনায় মারা গেছে। তিনটি ভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত পরিসংখ্যানের আলোকে গবেষণা প্রতিবেদনে ভারতের মৃত্যুচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমত, ৭ রাজ্যের সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম থেকে সাধারণ মানুষের জন্ম এবং মৃত্যু তারিখের তথ্য সংগ্রহ, দ্বিতীয়ত ৯ লক্ষ মানুষের অর্থনৈতিক সমীক্ষা এবং তৃতীয়ত রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট। এছাড়া সেরোলজিক্যাল সার্ভে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে করোনায় মৃত্যুর একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করোনায় ভারতে সরকারিভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ লক্ষ। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরও ভয়াবহ, মৃতের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন।’

নির্ধারিত সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কত মানুষ বেশি মারা গেছে সেই হিসাবে অতিরিক্ত মৃত্যু গণনা করা হয়। অতিরিক্ত মৃত্যুর পুরোটাই করোনার কারণে হয়নি, কিন্তু অধিকাংশই করোনামৃত্যুর অন্তর্গত। সরকারি গণনার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে এই সংখ্যা। প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যম ( Arvind Subramanian ) বলেছেন, ‘মৃত্যুর সংখ্যা কম থাকায় প্রথম ঢেউয়ের পর ভারতে এমন একটি ধারণা হয়েছিল যে, দেশ খারাপ পরিস্থিতি এড়াতে পেরেছে।

এই আত্মসন্তুষ্টি ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে গেছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ( Second Wave ) আমরা তাই এমন সব ভয়ংকর ছবি দেখেছি, যা অনভিপ্রেত।’ স্বাধীনতা ও দেশভাগের পর ভারতের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, করোনার প্রথম ঢেউয়েই দেশে ২০ লক্ষের কাছাকাছি মৃত্যু হয়েছিল। এই প্রথমবার নয়, এরআগেও বহু সাংবাদিক কোভিড মৃত্যু নিয়ে একই ধরনের দাবি করেছিল। কিন্তু যাবতীয় দাবি ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন