অতীত থেকে শিক্ষা? গত পঞ্চায়েতের কায়দায় পুরভোটে চাইছে না তৃনমূল

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কলকাতা পুরসভার ( KMC ) সহ রাজ্যের ১২৫টি পুরসভার নির্বাচন ( Municipal Election ) বাকি রয়েছে। নির্বাচন কবে হবে, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু পুর নির্বাচনে কোন ধরনের গন্ডগোল, রিগিং, জালিয়াতি করা চলবে না। বুথ জাম, বিরোধী প্রার্থীকে মনোনয়ন দাখিল করতে না দেওয়া, এজেন্ট বসতে না দেওয়ার মতো ঘটনা বরদাশ্ত করা হবে না। সম্প্রতি ঘরোয়া বৈঠকের নিজের ঘনিষ্ঠমহলে এমনটাই মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ( TMC ) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ( Abhishek Banerjee )।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক বলেছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ( Panchayet Election ) সন্ত্রাসের কুফল পেয়েছিল দল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভুক্ত হয়েছিল। যার পড়ে প্রায়শ্চিত্ত হয়েছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মোটের ওপর ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ, অবাধ এবং স্বচ্ছ। নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে এই ভোট নিয়ে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধীরা কোনও ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলতে পারেনি। তেমনি ভোট আগামী পুরসভা নির্বাচনে চাইছে দল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এই বিষয়ে দলের সাম্প্রতিক বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর। কারণ এই পুরসভা নির্বাচন যদি অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ না হয় তাহলে আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তার ফল ভুগতে হতে পারে। প্রয়োজনে কিছু সংখ্যক পুরসভা হাতছাড়া হোক তাতে ক্ষতি নেই। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ পুরসভা তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকবে, তেমনটাই মনে করছে দল। প্রশান্ত কিশোরের আভ্যন্তরীণ সমীক্ষাতেও তেমনটাই উঠে এসেছে। তাছাড়া বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।

ফলের পুরসভা নির্বাচনেও মানুষের সেই রায় খুব একটা এদিক-ওদিক হবার কথা নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সন্ত্রাসের পথ না ধরলেও চলবে। সেই বার্তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মহলে দলের শীর্ষনেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। সেই বৈঠকে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী উপস্থিত ছিলেন বলে খবর। কয়েকদিনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রকাশিত হবে। সেক্ষেত্রে নতুনদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনে কোন ধরনের সন্ত্রাস দল বরদাস্ত করবে না। যাতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়। সেই বিষয়েই সতর্ক দল।

আরও পড়ুন