নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : আগামী এক মাসের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ( TMC ) সংগঠন বিস্তার নিয়ে নিজের ভিশন ডকুমেন্ট পেশ করবেন। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর সোমবার প্রথম সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ( Abhishek Banerjee )। সেখানেই তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সংগঠন নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পেশ করব। সারা দেশ থেকে এখনও পর্যন্ত এক লক্ষ শুভেচ্ছাবার্তা এবং পরামর্শ পেয়েছি।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ( Mamata Banerjee ) শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন ই-মেইল করেছেন। এবার ভিন রাজ্যে ঘাসফুলের সংগঠন বিস্তার করায় তাঁর আগামী লক্ষ্য, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও বিকল্প নেই। সারা দেশের মানুষকেও বাঁচাতে পারবেন তিনিই। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ত্রিপুরা, আসাম, মনিপুর, এমনকি গুজরাট থেকেও তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন তৈরির অনুরোধ পেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
যার কারণ হিসেবে অভিষেকের ব্যাখ্যা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র জননেত্রী, যিনি দেশের সংবিধান, সার্বভৌমত্ব এবং দেশের মানুষকে রক্ষা করতে পারবেন। সেই কারণেই এবার বুঝেশুনে ভিনরাজ্যে তৃণমূল নিজের সংগঠন তৈরিতে মন দেবে। এই কাজে অভিষেককে সহযোগিতা বা পরামর্শ দেবেন প্রশান্ত কিশোর ( Prashant Kishor ), তেমনটাই তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর। বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্ব নিতে গেলেও প্রশান্ত কিশোর নিজের একটি ছোট টিম নিয়ে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রশান্ত কিশোর কলকাতায় থাকছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের সঙ্গে নানা রকম সাংগঠনিক আলোচনাও সারছেন। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক বৈঠকেও তাঁকে অভিষেকের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, পিকের পরামর্শ মেনেই সংগঠন বিস্তারের আগামীর ব্লু প্রিন্ট তৈরি করবেন তৃণমূলের এই সর্বকনিষ্ঠ সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তবে নিজের দলীয় ভিশন প্রকাশের পাশাপাশি বিজেপি সমালোচনা করতে ছাড়েননি অভিষেক।
বার বার তাঁকে পরিবার তন্ত্র নিয়ে বিজেপির থেকে সমালোচনা শুনতে হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে অভিষেক বলেন, আগামী ২০ বছর কোনও মন্ত্রী পদ নেব না। কিন্তু যে বিজেপি ( BJP ) পরিবারতন্ত্র নিয়ে কথা বলে, তাঁদের বড় বড় নেতাদের আত্মীয়রাও কোথাও মন্ত্রী কোথাও সহকারী পদে বসে রয়েছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলে জয় শাহ বিসিসিআইয়ের ( BCCI ) পদে থাকা নিয়ে কটাক্ষ করেন অভিষেক।
