ধূমকেতুর মতো উত্থান, বিস্ময়কর বিদায়, আজও হিমশীতল রহস্যে দিব্যার মৃত্যু

|

রানার প্রতিবেদন: দেখতে দেখতে ২৮ বছর পার। আজও অজানা বলিউডের হট গার্ল অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর মৃত্যুরহস্য। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল পাঁচতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। তখন তাঁর বয়স ১৯ বছর। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি এই স্বপ্নসুন্দরীকে। দিব্যার এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে বইও লিখেছিলেন ট্রয় রিবেইরো। পতনের ঘটনাস্থলে যারা ছিলেন, তাঁদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে বহু অজানা তথ্য প্রকাশ করেছিলেন ট্রয়।
১৯৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে জন্ম দিব্যার। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। তারপর তেলুগু ছবিতে দাগ্গুবাতি ভেঙ্কটেশের বিপরীতে অভিনয়ে প্রবেশ করেন। প্রথম হিন্দি ছবি ‘বিশ্বাত্মা’। ‘শোলা অউর শবনম’, ‘দিওয়ানা’ সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দেয় এই সুন্দরীকে। ‘দিওয়ানা’-তে শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ‘শোলা অউর শবনম’-এ অভিনয়ের সময় গোবিন্দর সঙ্গে আলাপ। তাঁদের মধ্যেও নাকি প্রেমসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।গোবিন্দ বলেছিলেন, ‘দিব্যাকে আমার ভাল লাগে। তিনি এত মোহময়ী রূপসী যে তাঁর সামনে পুরুষরা নিজেকে সামলাতে পারবে বলে মনে হয় না। তবে আমী দিব্যার মোহে পা দিইনি।’
ট্রয়ের বয়ান অনুযায়ী দিব্যা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। শেটা বহু দিন ধরেই। জানা গেছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রচুর মদ্যপান করেছিলেন তিনি। সেদিন বাড়িতে একাধিক অতিথি এসেছিলেন। দিব্যা নিজের গ্লাস নিয়ে বারান্দায় একাকী সময় কাটাচ্ছিলেন। পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে সবাই ছুটে যান। ট্রয় জানিয়েছেন, অতিথিরাই হাসপাতালে নিয়ে যান এই সুন্দরীকে। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সারা দেশ ভেসে যায় শোকে।
ট্রয়ের লেখা থেকে জানা যায়, দিব্যার স্বামী সাজিদ নাদিওয়াদওয়ালা হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন মৃত্যুর ঘণ্টা খানেক পরে। দিব্যার মৃতদেহ দেখে তিনি নাকি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।তাঁকে আইসিসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। দিব্যার এক অতিথি ছিলেন ডিজাইনার নীতা লুল্লা। পুলিশকে তিনি জানান, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু ঘটে গেছে। তাই তিনি স্পষ্ট করে জানেন না যে দিব্যা আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন।
দিব্যা নাকি বারান্দার রেলিংয়ের ধারে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। নীতা তাঁকে বাঁচানোর জন্য এগোতে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে দিব্যার ঝাঁপ। সেদিন সন্ধেবেলা নাকি স্বামী সাজিদের সঙ্গে ঝগড়া হয় দিব্যার।
এদিকে এক প্রতিবেশী বলেন, সাজিদের সঙ্গে ঝগড়ার পর অনেকগুলি ঘুমের ওষুধ খান দিব্যা। সাজিদ ভয় পেয়ে তাদের প্রতিবেশী নীতা লুল্লা ও তাঁর স্বামীকে ডাকেন। তাঁরা এসে দিব্যার ভাই এবং সাজিদকে বের করে দেন।
দিব্যার মৃত্যুর খবর পেয়েই হাসপাতালে গিয়েছিলেন বনি কাপূর, গোবিন্দ, সঞ্জয় কাপূর, সাইফ আলি খান প্রমুখ। গোবিন্দর মাধ্যমেই পরিচয় প্রযোজক সাজিদ নাদিওয়াদওয়ালার সঙ্গে। তার পর বন্ধুত্ব, প্রেম। ১৯৯২ সালের ১০ মে বিয়ে। তারপর দিব্যা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। নতুন নাম হয় সানা।

আরও পড়ুন