ধাপাতে ফেলে দেওয়া ময়লা এবার ফিরে আসবে আপনার ড্রইয়ং রুমে

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : জঞ্জাল পুনর্নবীকরনে ( Garbage Recycling ) যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা ( KMC )। ধাপায় তৈরি হয়েছে বর্জ্য পৃথকীকরণ ইউনিট। সেখান থেকে শক্ত এবং নরম বর্জ্য আলাদা করবে কলকাতা পুরসভা। তারপর আলাদা করা প্লাস্টিক থেকে তৈরি হবে নানা ধরনের প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য। শুক্রবার সেই প্লান্টের উদ্বোধন করলেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ( Firhad Hakim )। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতীন ঘোষ দেবাশীষ কুমার স্বপন সমাদ্দার সহ কলকাতা পুরসভার অন্যান্য কর্তাব্যক্তিরা।

এদিন মোট তিনটি প্রজেক্টর উদ্বোধন করা হয়। একটি হলো বায়ো মাইনিং ( Bio Mining ) এবং ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। বছরের পর বছর ধরে ধাপায় পড়ে থাকা ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন ময়লা পৃথকীকরণ করা হবে। যে ময়লা পরিষ্কার হলে ৬০ একর জায়গা খালি পাওয়া যাবে। রাজ্য সরকার এখানে ২৬০ কোটি টাকায় ৫টি ইউনিট বসিয়েছে। যেখানে নিত্যদিনের ফল-সবজি বিভিন্ন নরম বর্জ্য আলাদা করে সেগুলি থেকে সার তৈরি করা হবে। বাকি প্লাস্টিক বর্জ্য পৌঁছে যাবে অন্য কারখানায়।

যেখানে অপর একটি কারখানায় প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি হবে দরজা, চেয়ার-টেবিল, পিচবোর্ড, ফুলের তোড়া, গাছ লাগানোর টব সহ বিভিন্ন জিনিস। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে আর একটি কারখানা। নিউ টাউনের পাথুরিয়াঘাটা সেই কারখানাতে নির্মাণ বর্জ্য ভেঙে তৈরি হবে বালি। যে বালি অন্যান্য নির্মাণ প্রকল্পে বিক্রি করা। সরকারি এবং বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এই প্রজেক্ট তৈরি হয়েছে। উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করে ওই সংস্থা যা আয় করবে তার একটা লাভাংশ পাবে কলকাতা পুরসভা।

এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, কলকাতা পুরসভা জায়গা দিয়েছে। কাঁচামালের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। বাকি পুরোটাই বেসরকারি সংস্থা খরচ করছে। আমাদের কোনো খরচ হচ্ছে না। উল্টে কলকাতা পুরসভা এখান থেক লভ্যাংশ পাবে। পাথুরিয়াঘাটা যে কারখানা তৈরি হয়েছে সেখানে ৫০০ টন নির্মাণ বর্জ্য প্রতিদিন তৈরি হয়। সেটা দিয়ে বালি তৈরি করতে ৫ একর জায়গায় সেই কারখানা তৈরি করা হয়েছে।

আগামী ১০ বছরে সেখানে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা খরচ করবে ওই ওই বেসরকারি সংস্থা। সব মিলিয়ে কলকাতায় নিত্যদিন যে ৫০০০ মেট্রিক টন জঞ্জাল জমা হয়, আগামী দিনে তা আর ধাপাতে পড়ে থাকবে না। তা দিয়ে তৈরি হবে নানা ধরনের সামগ্রী। শহরের পরিবেশের পক্ষে সহায়ক হবে কলকাতা পুরসভার এই প্রকল্প।

আরও পড়ুন