শুধু ট্রেড লাইসেন্স খাতেই ফাঁকি ২৫০ কোটি, উদ্ধারে তৎপরতা

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ট্রেড লাইসেন্স থেকে বকেয়া পড়ে কয়েকশো কোটি টাকা। সেই টাকা তুলতে মাঠে নেমেছে কলকাতা পুরসভা। ভিজিট করছেন কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের কর্মী-আধিকারিকেরা। এবার সেই লাইসেন্সের অনাদায়ী অর্থ তুলতে কলকাতা পুরসভার আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বকেয়া টাকা না দিলে মামলার খপ্পরে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

গুনতে হতে পারে মোটা জরিমানা। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বহু বছর ধরে বকেয়া পড়ে থাকা ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যাটা প্রায় সাড়ে চার লক্ষ। আর্থিক পরিমাণ ২৪২-২৪৫ কোটি টাকা। লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ হয়নি বহুবছর। বকেয়া করও মেটানো হয়নি। নথিভূক্ত থাকা সেই ব্যবসাগুলি আদৌ চলছে কিনা সেটা দেখতেই নেমেছেন আধিকারিকরা। কোষাগারে টাকা ঢোকাতে এই ক্ষেত্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি নতুন লাইসেন্স ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেওয়া চালু করেছে পুরসভা। সবটাই হচ্ছে অনলাইনে। তুলে দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের প্রাথমিক ভিজিলান্স বা সরেজমিনে পরিদর্শন। সেই আধিকারিকদের এবার ট্রেড লাইসেন্সের বকেয়া অর্থ তোলার ব্যাপারে কাজে লাগানো হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার ব্যাখ্যা, অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন, যাঁরা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও টাকা মেটাচ্ছেন না।

তাঁদের বিরুদ্ধে এবার কড়া মনোভাব নিচ্ছে পুর-কর্তৃপক্ষ। কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, রাজস্ব আদায়ের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তার পাশাপাশি যেসব জায়গায় বকেয়া পড়ে রয়েছে সেগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছি। সেইমতো উঠে-পড়ে লেগেছেন পুর-কমিশনার বিনোদ কুমারও।

নতুন নতুন পন্থা বার করার চেষ্টা করছেন। তারই অন্যতম সংযোজন পড়ে থাকা লাই নাসেন্স খতিয়ে দেখে যতটা সম্ভব বকেয়া অর্থ পুর-কোষাগারে ঢোকানো। এক পুর-কর্তা বলেন, বছরের পর বছর ধরে এগুলি পড়ে রয়েছে। তাই একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার ছিল।

কোথাও কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কিনা সেই গুলো সমাধান করার ব্যবস্থা করবে পুরসভা। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ টাকা না মেটান, তাহলে এবার আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করব। হাজিরা দিতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা হবে না।

আরও পড়ুন