নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শহরের বাজারগুলিতে কোভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও দেওয়া হয়নি দ্বিতীয় ডোজ ( Second Dose )। কলকাতার বাজারে দোকান কর্মচারী বা মালিক করোনা টিকার ( Corona Vaccine ) প্রথম ডোজ পেয়েছেন এমন সংখ্যা ১৮৩০০। এঁদের অনেককেই কোভ্যাকসিন ( Covaxin ) দেওয়া হয়েছে আবার অনেককে কোভিশিল্ড ( Covishield )। তাঁদের মধ্যে কোভ্যাকসিন প্রাপকদের বড় অংশের ন্যূনতম ২৮ দিন পেরিয়েছে। এমনকি ৫০ দিন পার হতে চললেও এখনও পর্যন্ত জানেন না তাঁরা কবে পাবেন দ্বিতীয় ডোজের টিকা?
যদিও পুরো কর্তাদের আশা, চলতি সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ শুরু করে দেওয়া যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার টিকা না পাঠালেও আজ মঙ্গলবার এর মধ্যে বিভিন্ন জেলায় পড়ে থাকা ভ্যাকসিনের কিছু দোষ কলকাতায় নিয়ে আসার কথা হয়েছে বলেই কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর। সম্প্রতি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি কলকাতা কর্পোরেশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল দ্বিতীয় ডোজ তাঁদের বাজার এলাকায় এসেই দিয়ে যাক। তবে কলকাতা কর্পোরেশন জানিয়েছিল বাস পাঠানো আর সম্ভব নয়।
তাঁদের সুবিধা মতো কোনও কোভ্যাকসিন বা কোভিশিল্ড সেন্টারে এসেই নিতে হবে। এর ফলে প্রথম ডোজ নেওয়া দোকানকর্মী থেকে মালিকরা চরম সমস্যায় পড়েন। কারণ টিকাকেন্দ্রগুলিতে এমনই ওই এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘ লাইন থাকে। প্রতিদিন যে পরিমাণ লাইন থাকে সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকেই ফিরে যেতে হয় টিকা না পেয়ে। এর উপরে গত শুক্রবার থেকে কলকাতারয় ৩৯টি কোভ্যাকসিন টিকাকরণ কেন্দ্র সোমবার পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়েছে টিকা না থাকায়।
ফলে যাঁরা লাইন দিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নিতে গেছিলেন তাঁদেরও ফিরতে হয়েছে। তবে সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে পৌর কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছেন, প্রথম বারের মতো বাস গিয়ে তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ দেবে। পাশাপাশি জানিয়েছেন, কবে যাবে তা নির্দিষ্ট নয়। তবে যেমন যেমনভাবে কোভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল সেই তালিকা অনুসারে প্রাপকদের দ্বিতীয় ডোজ নিতে আমরা জানিয়ে দেব। তবে কোভ্যাকসিন হাতে এলে তারপর এসব হবে।
কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার বাজারগুলিতে ৩ জুন থেকে টিকাকারণ শুরু হয়। ৪৫টি শিবিরে কোভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ৩৪টি শিবিরে কোভিশিল্ড দেওয়া হয়। ১৮ উর্ধ্ব এমন ১২৮১১ জন টিকা পেয়েছেন। ৪৫ উর্ধ্ব ৫৪৮৫ জন পেয়েছেন। যাঁরা কোভিশিল্ড পেয়েছেন তাঁদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে। তবে কোভ্যাকসিন নিয়েছেন এমন অনেকের ৫০ দিন পার হতে চলায় দ্বিতীয় ডোজ কবে মিলবে! এই চিন্তা ক্রমশ চেপে বসছে।
কোভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে এমন দোকানদারদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এই প্রসঙ্গে এফটিও’র তরফে শুভেন্দু ঘোষ জানান, আমরা যে দাবি করেছিলাম তা পৌর কর্তৃপক্ষ মেনেছেন। তবে এদিকে সময় অতিক্রান্ত হয়ে চলেছে। বাস কবে পাঠানো হবে? এটা তাঁরা নির্দিষ্টভাবে কিছু জানাননি। যত দিন যাচ্ছে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় থাকা কর্মচারী থেকে মালিকদের চিন্তা বাড়ছে। তাঁরা ভয় পাচ্ছেন সময় না পেলে কোনও ক্ষতি হবে কি না।
তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই হাতে টিকা আসা মাত্র সেন্টারগুলির সঙ্গেই আমাদের বাজারে প্রথম বারের মতো বাস পাঠিয়ে শিবিরের মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজ দ্রুত দেওয়া হোক। কলকাতা কর্পোরেশনের জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে ফের কোভ্যাকসিন সেন্টারগুলিতে টিকা দেওয়া শুরু হবে। তবে শুধুমাত্র দ্বিতীয় ডোজ। কারণ কলকাতায় এই মহূর্তে কোভ্যাকসিন দ্বিতীয় ডোজের দাবিদার প্রায় ৭৫ হাজার নাগরিক। পাশাপাশি বাজার এলাকায় শিবির করে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
