কলকাতা: ওমিক্রনএর চরিত্র বলে দিচ্ছে আরো একমাস এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে হবে পশ্চিমবঙ্গে। করোনা ভাইরাস এর নতুন স্ট্রেন ওমিক্রণ প্রথম আঘাত হানে দক্ষিণ আফ্রিকায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে। তারপর ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ব্রিটেনে শুরু হয় তান্ডব। গতকাল ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে ভাইরাসের প্রকোপ এবার কমতে শুরু করেছে তাদের দেশে ।
একই খবর এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে ঝড়ের গতিতে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে এবার সেভাবেই ঝড়ের গতিতে নিম্নমুখী হবে এই ভাইরাসের আক্রমণ। প্রায় দুই মাসের মত ধরে দাপট দেখিয়েছে করো না। অর্থাৎ ব্যাপকহারে যেভাবে ছড়িয়েছে, সেভাবেই এবার নিম্নগামী হতে শুরু করল। পশ্চিমবঙ্গে এবার তৃতীয় ঢেউয়ের প্রভাব প্রথম লক্ষ্য করা যায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। চিকিৎসকরা বলছেন, সেই অংক করলে এ রাজ্যে অন্ততপক্ষে আরো একমাস করোনার তান্ডবকে রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে ।
চিকিৎসক মহলের বক্তব্য, তৃতীয় ঢেউ দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়লেও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো এতো ভয়ংকর হতে পারেনি। তার কারণ করোনার সঙ্গে লড়তে লড়তে মানবদেহে হার্ড ইমিউনিটি যে তৈরি হয়েছে তৃতীয় ঢেউ থেকেই তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সম্ভবত তৃতীয় ঢেউয়ের থেকেই শুরু হলো করোনার অন্তর্জলী যাত্রা।
দেশ-বিদেশের বহু চিকিৎসকের দাবি, করোনার তৃতীয় ঢেউ অমিক্রণ আসলে প্রকৃতির অবদান। গণ তিকাকরন কর্মসূচি হয়ে গেল এর হাত ধরেই। যে সমস্ত রুগীর কো মর্বিডিটির প্রকোপ রয়েছে উচ্চহারে, একমাত্র তাদেরকেই ভুগিয়েছে ওমিক্রন। বাকি সিংহভাগ রোগীর দেহে উপসর্গ ছিল সীমিত। কার্যত টিকার ভূমিকা নিয়েছে এই ভাইরাস । যে টিকাকরণ কর্মসূচি মানবদেহে হার্ড ইমিউনিটি তৈরিতে সাহায্য করেছে। এরপর করোনা আর মানবজাতিকে কাবু করতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, হয়তো করোনার দাপট কমতে শুরু করার প্রাথমিক লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে ওমিক্রণ এর আত্মপ্রকাশের হাত ধরেই।
