দিবাকর দত্ত : জাপানে ( Japan ) বৃদ্ধদের মানুষের পরিবর্তে রোবটের সেবা নেওয়ায় অভ্যস্ত হওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। দক্ষ প্রযুক্তিবিদরা তাই শারীরিক দিক দিয়ে দুর্বল বয়োবৃদ্ধদের শয্যাত্যাগ, হুইল চেয়ারে বসানোয় সহায়ক রোবট প্রযুক্তি ( Robot Technology ) উদ্ভাবনে মন দিয়েছেন। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের আওতাধীন রোবট উদ্ভাবন গবেষণা কেন্দ্র এ-বিষয়ে এগিয়েও এসেছে।
এ-জাতীয় রোবট প্রযুক্তির ( Robot Technology ) উৎকর্ষ সাধিত হলে রোবটগুলো বৃদ্ধ অথর্বদের কোলে তুলে নিয়ে বাথটাবে বসিয়ে দিতেও সক্ষম হবে। ২০২৫ সাল নাগাদ জাপানে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার সেবকের ঘাটতি দেখা দেবে। তাই জাপান সরকার ( Japan Government ) এই ঘাটতি রোবট দিয়ে মেটাতে বদ্ধপরিকর। বৃদ্ধরা মানুষের পরিবর্তে রোবটের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার বিষয়টিকে যেন স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন, সে প্রচারও চলছে। সেই সঙ্গে সরকার রোবটের সম্ভাব্য কাজের প্পরিধিও বাড়াতে চায়।
কারও টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন কখন হতে পারে সেটা যেন রোবট আগেভাগে বুঝতে পারে। এই বিষয়টিও রোবটের কার্যক্রমে রাখা হয়েছে। প্রবীণদের সহায়তা করা ছাড়াও এসব রোবটকে কীভাবে আরও ব্যাপক পরিসরে কাজে লাগানো যায়, সেই চিন্তাভাবনাও জাপান সরকারের আছে। এ-প্রসঙ্গে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির রোবট প্রযুক্তি গবেষণার পরিচালক ডক্টর হিরোহিশা হিরুকাওয়া বলেন, এসব রোবট তৈরি হয়ে গেলে নার্সদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।
এছাড়া যারা বৃদ্ধাশ্রমে না গিয়ে নিজেদের বাড়িতে থাকতে চান, তাঁদেরও বাড়িতে থাকা আরামদায়ক ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত হবে। হিরুকাওয়ার মতে, রোবট প্রযুক্তি সব ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না ঠিকই, তবে এটি বৃদ্ধদের অনেক শারীরিক সমস্যার সমাধানেই সহায়ক হবে। হিরুকাওয়ার গবেষণা কেন্দ্র নার্সিং সেবা প্রদানে সক্ষম এমন ৯৮টি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি সহায়তা প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হবে।
গত পাঁচ বছর ধরে এই প্রকল্পের সমন্বয়ক হিসেবে হিরুকাওয়ার প্রতিষ্ঠান অনলস কাজ করে চলেছে। তবে এসব সংস্থা থেকে যেসব রোবট বেরিয়ে আসে তার সবই যে বৃদ্ধদের কাজে লাগে তা নয়। এর মধ্যে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয় ১৫টি প্রতিষ্ঠানের এমন রোবটও বাজারে স্থান করে নিয়েছে। হিরুকাওয়ার মত অনুসারে, রোবট প্রযুক্তি সব ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না সেটা ঠিক। তবে বৃদ্ধদের অনেক একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে।
তাঁদের উদ্ভাবনী সেবাদানকারী রোবটের মাত্র ৮ শতাংশ নার্সিং হোমগুলোতে কাজে লাগানো হয়েছে। রোবটের সংখ্যা এত কম কেন? এ-সম্পর্কে হিরুকাওয়া ব্লেন, মূলত দুটি কারণে রোবটের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রথমত, এটি তুলনামূলকভাবে ব্যয়সাপেক্ষ এবং দ্বিতীয়ত, প্রবীণ সেবাগ্রহণকারীদের মধ্যে অবিশ্বাসী মানসিকতা। অনেক বৃদ্ধই যান্ত্রিক সেবা গ্রহণের বিষয়টিকে পছন্দ করেন না, বরং মানুষের সেবা গ্রহণেই বেশি আগ্রহী।
