রানার প্রতিবেদন : সাধারণত সৌন্দৰ্য প্ৰতিযোগিতা মনুষ্যপ্রজাতির মহিলাদের নিয়েই হয়ে থাকে এবং এটাই বেশি প্ৰচলিত। তবে মেয়েদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্ৰাণীরও সৌন্দৰ্য প্ৰতিযোগিতার কথা শোনা যায়। সম্প্ৰতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গোরুর সৌন্দৰ্য প্ৰতিযোগিতার ( Cow Beauty Contest ) একটি অভিনব ও মজার আয়োজন। প্ৰতিযোগিতাটির নাম হলস্টেইন শো ( Holstein show )। এই প্রতিযোগিতা জার্মানির আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতাগুলির মধ্যে অন্যতম।
জাৰ্মানির ( Germany ) লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যে গোরুর রূপগুণ বিচার করার জন্য পরম্পরাগতভাবেই অভিনব এই প্ৰতিযোগিতার সারম্বড়ে আয়োজন করা হয়। মূল প্ৰতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল আরও অনেক কাৰ্যকলাপ। যেমন গোরুর মুভির শুটিং। এতে আফ্ৰিকা নামের একটি গোরুর মুখচ্ছবিতে কৌতূহলের অভিব্যক্তি আনতে একটি বল ব্যবহার করা হয়। স্টিভ ম্যাকলাউলিন নামের একজন আছেন, যিনি মঞ্চের আড়ালেই থাকেন।
গোরুর সৌন্দৰ্য বাড়ানোজ কাজেই ব্যস্ত থাকেন তিনি। মেয়েদের সৌন্দৰ্য প্ৰতিযোগিতার মতো এক্ষেত্ৰেও বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ করে আনা হয়। আয়ারল্যান্ড থেকে স্টিভ ম্যাকলাউলিনকে প্ৰতিযোগিতায় আনা হয়েছিল। তিনি বিশ্বের সেরা গোসৌন্দর্যবিদদের ( World Best Cow Aesthetics ) একজন। গোসুন্দরীদের সাজগোজের জন্য ছিল ব্যাপক আয়োজন। শীতপ্ৰধান দেশ বলে গোরুগুলোর গায়ের রোম অনেক বড় বড় হয়। মাথার পাশে অনেক গোরুর এমন ঘন ও দীৰ্ঘ রোম থাকে যে, তাদের সুকেশী বলা যায় নিৰ্দ্বিধায়।
তাদের চুল কাটার জন্য ছিল বিশেষ সেলুন। ছিল বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত নাপিতের দল। পাঁজর আর দুধের বাটে মাখানোর জন্য ছিল বেবি অয়েল। চুল রং করানোর জন্যও ছিল বিশেষ ব্যবস্থা। বিশ্ববিখ্যাত মনুষ্যমডেলদের মতো ক্যাটওয়াকেও অংশ নিয়েছে গোসুন্দরীরা। কান খাড়া করে, নিতম্বটা একটু যৌন আবেদনময়ীর ভঙ্গিতে তুলে সামনের দিকে সতৰ্ক দৃষ্টি রেখে আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে যারা এগিয়ে যেতে পারবে, তাদেরই ফুল মাৰ্কস দিয়েছেন বিচারকরা।
বিচারকদের কাছে জরুরি বিষয় হল শারীরিক গঠন, দীৰ্ঘ আয়ু, স্তনের আয়তন এবং দুধ দেওয়ার ক্ষমতা। বয়স্ক ও কমবয়সি গোরুর জন্য ছিল আলাদা আলাদা পয়েন্ট। প্ৰতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার জন্য গোরুর শারীরিক গঠন ভালো হতে হবে। তাছাড়া অনেক খাদ্য খাওয়ার জন্য পেট যথেষ্ট গভীর হওয়া চাই, পাঁজর শক্ত হতে হবে। স্তন হবে ভরাট, বাঁট মজবুত হতে হবে এবং তা গোড়ালি থেকে অনেক ওপরে থাকতে হবে। যতটা সম্ভব দীৰ্ঘ সময় ধরে গোরুকে অনেক দুধ উৎপাদন করতে হবে।
অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য, এমন কিছু গোরু প্ৰতিযোগিতায় ছিল যারা দিনে প্ৰায় ৪০ লিটার দুধ দিতে সক্ষম। তারা যাতে নিজেদের বাঁটের ভারে কাবু না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করতে প্ৰজননকারীদের গোরুর শারীরিক গঠনের প্ৰতিও মনোযোগ দিতে হয়। শুধু তাই নয়, প্ৰতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য গোরুর দীৰ্ঘ আয়ুও নিশ্চিত করতে হবে। এই অভিনব সৌন্দৰ্য প্ৰতিযোগিতায় জাৰ্মানি আর লুক্সেমবাৰ্গের অন্তত ২০ লক্ষ সুন্দরী ও স্বাস্থ্যবতী গোরুঅংশ নেয়।
২০ লক্ষ থেকে গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা নিয়ে ফাইনালে ২০০ গোসুন্দরী প্ৰদৰ্শিত হয়। এতে অনেক গোরুই উল্লেখ্য, অংশগ্ৰহণকারী গোরুদের প্ৰশিক্ষকরা প্ৰতিযোগীদের বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, পরিমিত খেতে এবং ঘুমোতে। শরীর কখনও নোংরা করা যাবে না। প্ৰতিদিন শাওয়ারের নীচে দাঁড়াতে হতো প্ৰতিযোগীদের। চার পায়ের খুরও পরিষ্কার করা হতো রোজ, বিশ্ৰাম নিতে হতো বাঁধা সময় মেনে। আর এই প্ৰতিযোগিতায় যে স্বেচ্ছাসেবী তরুণীরা ছিলেন, তাঁরাও কিন্তু একেকজন পরমাসুন্দরী।
