আন্তর্জাতিক রিপোর্ট:ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে কলকাতা|

|

রানার প্রতিবেদন:বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে কলকাতায় এখন চতুর্থ স্থানে। আরও বড় দুঃসংবাদ এটাই যে গোটা পৃথিবীর ১০টি দূষিত শহরের মধ্যে তিনটি শহরই ভারতের। এক নম্বর স্থান করে নিয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লি। চতুর্থ স্থানে কলকাতা। ষষ্ঠ স্থানে মুম্বাই। সুইজারল্যান্ড এর পরিবেশ সংগঠন আইকিউ এয়ার-এর করা সমীক্ষার পর যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তাতে চোখ কপালে উঠেছে পরিবেশবিদদের। গোটা বিশ্বের দশটি দূষিত শহরের মধ্যে তিনটি শহরই ভারতের, শীর্ষস্থানে দিল্লি।

পরিবেশবিদদের বক্তব্য, যে মাপকাঠিগুলো ব্যবহার করে বাতাসের দূষণ মাপা হয় তার মধ্যে রয়েছে ভূমি স্তরের ওজন, সালফার ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড এবং পার্টিকুলেট ম্যাটার ইত্যাদি পরিমাপ করেই তৈরি হয় সূচক। দূষণের সূচক অনুযায়ী যে দশটি শহরের নাম শীর্ষে উঠে এসেছে, তার মধ্যে এক নম্বর দিল্লি, দুই নম্বর স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, তিন নম্বরে বুলগেরিয়ার সোফিয়া, চার নম্বরে কলকাতা, পাঁচ নম্বরে ক্রোয়েশিয়ার জাগরেব, ছয় নম্বরে মুম্বাই, সাতে সার্বিয়ার বেলগ্রেড, আট নম্বরে চিনের চেংদু, নয় নম্বরে উত্তর মেসিডোনিয়ার শহর স্কোপজে এবং দশ নম্বরে পোল্যান্ডের ক্র্যাকো। একটা সময় ছিল যখন কলকাতার বায়ু দূষণ নিয়ে চর্চা হতো, বায়ুদূষণ পরিমাপ করার যন্ত্রপাতি নিয়ে আলোচনা হতো, এবং তারপরে হইচই বাধার পর দেখা গেল বহু স্থানে বায়ু দূষণ মাপার যন্ত্রপাতি ঠিক নেই। সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করা এবং জনসমক্ষে আনার বিষয়টি নিয়েও গাফিলতি রয়েছে। কিন্তু এখন পুরো ব্যবস্থাটাই কার্যত অন্তরালে চলে গেছে বললে ভুল বলা হবে না। বলা ভালো কলকাতার বায়ু দূষণের পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া, প্রশাসনিক তৎপরতা, কোন কিছুই এখন আর চোখে পড়ে না।

একসময় আলোচনা হয়েছিল পরিবহন ব্যবস্থায় সিএনজির ব্যবহার নিয়ে। এখন সেটাও ধামাচাপা। আদালতের নির্দেশের পর বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ধুলোবালি কে আটকাতে চারদিকে ঢাকা দেওয়ার ব্যবস্থা ও কিছুদিন চোখে পড়েছিল কিন্তু এখন সেটাও নেই। খোলা ট্রেন এখনো প্রচুর রয়েছে শহরে। বায়ু দূষণ সম্পর্কে যে সচেতনতা গড়ে তোলা উচিত ছিল সেটাও হয়নি। দূষণ কমাতে উদ্যোগও চোখে পড়ে না। দূষণ বাড়তে বাড়তে কলকাতা ক্রমশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন