রানার প্রতিবেদন : যাঁরা স্বাস্থ্যবান থাকার জন্য অৰ্গানিক বা জৈব খাদ্যের ( Organic Food ) উপর নিৰ্ভরশীল, তাঁদের জন্য সম্প্ৰতি কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ( Stanford University ) একদল বিজ্ঞানী। এক সমীক্ষা চালিয়ে এই বিজ্ঞানীরা তাঁদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছেন যে, প্রচলিত ও জৈব দুধের মধ্যে প্রোটিন ও চৰ্বির কোনো পাৰ্থক্য নেই। এছাড়া প্রচলিত ও জৈব খাদ্যের মধ্যে ভিটামিনেরও কোনো পাৰ্থক্য পাননি বিজ্ঞানীরা।
শুধু ফসফরাস নামের পরিপোষকটি জৈব খাদ্যে প্রচলিত খাদ্যের তুলনায় বেশি পরিমাণে থাকে। জৈব খাদ্যের একমাত্ৰ উপকার হল, এটি কীটনাশকবিহীনভাবে উৎপাদন করা হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। ইন্টারনাল মেডিসিনের মেডিক্যাল জাৰ্নালে ( Internal Medical Medicine Journals ) প্রকাশিত এই সমীক্ষার ফলাফল মতে, প্রচলিত শাক-সবজি ও ফলমূলের তুলনায় জৈব খাদ্যে ৩০ শতাংশ কম পেসটিসাইড ব্যবহার হয়।
তবে সব জৈব খাদ্য ১০০ শতাংশ কীটনাশকবিহীন হয় না। এছাড়া জৈব মুরগি ও শূকরের মাংস অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাক্টেরিয়াকে হ্ৰাস করে। জৈব তথা প্রচলিত খাদ্যে বিশেষ কোনো পাৰ্থক্য থাকে না। ‘তাই প্রাপ্তবয়স্কদের খাবার আগে নিজেদেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত তাঁরা কী খাবেন’, এই বক্তব্য জৈবখাদ্য নিয়ে সমীক্ষাকারী দলের সদস্য তথা বরিষ্ঠ লেখক দিনা ব্ৰভাতের।
এ-সম্পৰ্কে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জৈব খাদ্য এখনও সেভাবে চালু না হলেও এটা সত্য যে জৈব খাদ্য ও প্রচলিত খাদ্যের গুণে বিশেষ কোনো তফাত থাকে না। তাঁরা আরও বলেন, তাঁরা আমমানুষকে সৰ্বদা প্রচলিত খাদ্য খাওয়ারই পরামৰ্শ দিয়ে থাকেন। তবে ভালমতো ধুয়ে পরিষ্কার করে। বিশেষজ্ঞরা সংগৃহীত খাদ্যের পরিবৰ্তে মরশুমি শাকসবজি তথা ফলমূল খাবার উপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
গবেষকরা তাঁদের গবেষণার বিশ্লেষণে মানুষের জৈবিক ও চিরাচরিত খাদ্য গ্রহণণ সম্পৰ্কিত ১৭টি পরীক্ষা-নিরীক্ষাপত্ৰ সহ সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক মোট ২৩৭টি গবেষণাপত্ৰ চিহ্নিত করেছেন যা কি-না তুলনামূলকভাবে বিচার করতে গেলে পুষ্টিগত বা ব্যাক্টেরিয়া, ফাঙ্গাল অথবা কীটনাশক দূষণ পৰ্যায়ে জৈবিক অথবা পরম্পরাগত পদ্ধতিতে উৎপাদন করা হয়েছে।
