“স্বাধীন রাষ্ট্র হতে পারে কাশ্মীর”, গণভোটের পক্ষে ইমরান, বিতর্ক পাকিস্তানে

|

রানার প্রতিবেদন : কাশ্মীরের ( Kashmir ) মানুষ যদি মনে করে তারা পাকিস্তানের ( Pakistan ) সঙ্গে থাকবেন না, তারা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে থাকবেন, সে ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি নেই ইসলামাবাদের। প্রকাশ্য জনসভায় এই মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ( Imran khan )। পাক নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরে প্রকাশ্য সভায় তিনি বলেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন চালাচ্ছে। অসংখ্য প্রাণ গেছে, রক্তে ভেসেছে উপত্যাকা।

তারা যে আত্মত্যাগ করে চলেছে তা কখনো বিফলে যেতে পারে না, দাবি ইমরানের। তিনি বলেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের ( United Nations ) মধ্যস্থতায় ভারতের অংশে থাকা কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের কাশ্মীর ভূখণ্ড, এই দুটির মধ্যে যদি গণভোট নেওয়া হয় তাহলে ইসলামাবাদের কোন আপত্তি নেই। কাশ্মীরের মানুষ যদি চায় তাহলে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে না এসে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। ইমরানের এই বক্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে পাকিস্তানে।

পাকিস্তানের বিরোধী দল ইমরানের সমালোচনা করে বলেছে, পাকিস্তানের সংবিধান, আইন এবং জনগণের মনোভাব কে উপেক্ষা করছেন ইমরান। অর্থাৎ বিরোধীরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে তারা ভারত ভূখণ্ডের কাশ্মীরকেও পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে চান। যদিও তাদের সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হবে কিনা সেটা নির্ভর করছে ভারত সরকারের উপর। কারণ ভারত সরকার আগাগোড়াই বলে আসছে কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

শুধু ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা অংশটুকুই নয়,পাক নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরকেও নিজেদের ভুখন্ড বলেই দাবি করে আসছে নয়াদিল্লি। কাশ্মীর যে আর পাঁচটি ভারতীয় রাজ্যের মতই, দুনিয়ার সামনে তা তুলে ধরতে ৩৭০ ধারা লুপ্ত করা হয়েছে। সুতরাং এক্ষেত্রে পাকিস্তানের ইমরান খানের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর দাঁড়িয়ে নেই বিষয়টি।

রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহল থেকে মনে করা হচ্ছে, কাশ্মীর ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাবার নতুন কৌশল খুঁজছেন ইমরান খান ( Imran Khan )। যতই বিষয়টিকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখানো হোক না কেন, পাকিস্তান চাইছে কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে গিয়ে সমাধান খুঁজতে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাবার জন্যই এখন নতুন নতুন ফিকির খুঁজতে শুরু করেছে ইসলামাবাদ।

আরও পড়ুন