রানার প্রতিবেদন : বৰ্তমানে করোনা ( Corona ) চিকিৎসার অনেককিছুতেই রোবটের ব্যবহার হচ্ছে। ওষুধ দেওয়া, রোগীদের মনিটরিং করা, তাঁদের খাবার পৌঁছে দেওয়া ইত্যাদি কাজ রোবট করেছে। এবার রোগীদের একাকীত্ব কাটানোর কাজেও নেমে পড়ল রোবট ( Robot )। করোনা রোগীদের এমনিতেই সকলের থেকে আলাদা করে আইসোলেশন ওয়াৰ্ডে রাখা হয়, কেননা রোগটি অসম্ভব ছোঁয়াচে। আত্মীয়-পরিজন-বন্ধু কারও সঙ্গেই দেখা করতে দেওয়া হয় না।
ফলত তাঁদের একটা অবসাদ তৈরি হয়। সেই একাকীত্ব কাটাতেই মেক্সিকো সিটির একটি হাসপাতালে এক রোবট ঘুরে ঘুরে সকলের সঙ্গে কথা বলে। ৪.৬ ফুট উচ্চতার এই রোবটটি হাসপাতালের ঘরে ঘরে গিয়ে রোগীকে বলে, ‘হাই, আমি লালুচি রোবোটিনা ( Laluchy Robotina ), তোমার নাম কী?’ প্ৰথমটায় সকলে অবাক হয়ে গেলেও এখন সয়ে গেছে। চাকার উপর দাঁড়িয়ে এই রোবট একঘর থেকে অন্যঘরে যায়। এর শরীরে লাগানো আছে ক্যামেরা যাতে রোগীর পরিবারের লোক বা চিকিৎসকরা রোগীর সঙ্গে কথা বলতে পারছেন।
মেক্সিকোর ন্যাশনাল মেডিক্যাল সেন্টারের নিউরোসাইকোলজিস্ট লুসিয়া লেডেসমা জানান, ‘এই রোবটটিকে শারীরিকভাবে সব জায়গায় উপস্থিত থাকতে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোভিড ১৯ সংক্ৰামিত এলাকার মধ্যে যাতে এরোসলের সংস্পৰ্শে না আসে সেটাও দেখা হচ্ছে। কেননা এই এরোসল থেকেই তো সংক্ৰমণ ছড়ায়।’ করোনা মেডিক্যাল টিম মনে করছে এই অতিমারির সময়ে রোবটের ব্যবহার করোনা সংক্ৰমণের ঝুঁকি কমাবে এবং সেজন্যই একে কো থেরাপিস্ট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এখনও পৰ্যন্ত লালুচি রোবোটিনা প্ৰায় ১৬০ জন রোগীর সঙ্গে তাঁদের পরিবার ও মনোচিকিৎসকদের ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে কথা বলিয়ে দিয়েছে। ভাইরাস নিয়ন্ত্ৰণ কৰ্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সান্তা মু্যনোজ জানান, ‘করোনা রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য কাজ করছে এই রোবট। এতে রোগীরাও উপকৃত হচ্ছেন।’ যেমন রোসা মারিয়া ভ্যালেজকু্যয়েজ, ৫৫ বছরের এই মহিলা হাসপাতালের শয্যা থেকেই জানালেন, ‘পরিবারের লোকজনের এখানে আসার অনুমতি নেই, কাজেই রোবটের মাধ্যমেই আমরা তাদের দেখছি, তারা আমাদের দেখছে, এভাবেই কথা হচ্ছে। এটাই যথেষ্ট।’ বৰ্তমানে করোনা আবহে যখন মানুষের সংস্পৰ্শ দূরে রাখতে বলা হচ্ছে, তখন রোবটরা কাৰ্যকরীভাবে তাদের কাজ করে যাচ্ছে।
কিন্তু যখন এই অতিমারি শেষ হয়ে যাবে, তখন কি তারা কৰ্মহীন হয়ে পড়বে? গবেষকরা বলছেন তখন তাদের হয়তো-বা অন্য কাজে লাগানো হবে, বারে বিয়ার দিতে, কিংবা ব্যাংককের শপিংমলে স্যানিটাইজার বিলি করতে, ওয়াশিংটনে মুদির দোকানের জিনিস সরবরাহ করতে অথবা বেলজিয়ামের হাসপাতালে রোগীকে মনিটর করে জানাবে কার জ্বর হেয়েছ আর কার হয়নি। এমন হরেক কাজ তাদের জন্য পড়ে আছে।
