বিশেষ প্রতিবেদন : ইন্টারনেট পরিষেবা এখন সকলের হাতের মুঠোয়। একটু গুগল সার্চ, ব্যাস নিল দুনিয়ার দরজা খুলে গেল আপনার সামনে। নারী কিংবা পুরুষ, পর্ণগ্রাফিতে ( Porngraphy ) আসক্ত মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এর পেছনে একাধিক যুক্তি আছে, বিতর্কও আছে প্রচুর। সম্প্রতি ইতালির ( Italy ) একদল গবেষক অসংখ্য মানুষের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে যে রিপোর্ট তৈরি করেছেন, তাকে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে গোটা দুনিয়া। আপনিও একঝলক দেখে নিন।
প্রথমেই বলা হয়েছে, পর্ন দেখা আদৌ কোনও অসুস্থতার লক্ষণ নয়। কিন্তু তারপরই এসেছে সাবধান বাণী। মদ মানেই যেমন খারাপ নয়, পরিমিত মদ্যপান অনেক ক্ষেত্রে উপকারী, তেমনি পর্ন দেখাও আপনার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। আসক্তি জন্মালেই মাথাচাড়া দেবে একগুচ্ছ সমস্যা যা আপনার স্বাভাবিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে আপনার বাস্তব যৌন জীবনকে। পর্ন ছবিতে ( Porn film ) যে অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রী থাকেন তাদের যৌন অভিনয়ের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই বললেই চলে।
ফলে পর্দায় তারা যে সব ভঙ্গিমা, মুদ্রা এবং ফোরপ্লে করে থাকে, আপনার সঙ্গিনী সেটা করতে না পারলেই আপনার যৌন তৃপ্তিতে ব্যাঘাত ঘটবে। ক্রমাগত পর্ন দেখলে নারী বা পুরুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। নারী বা পুরুষ যিনি পর্নে আসক্ত তিনি তার অপজিট সেক্সের কাউকে দেখলে তাকে নিছক একজন সেক্স প্রোডাক্ট হিসাবে মনে হতে পারে। মানুষটির একাধিক সত্ত্বা তখন আপনার কাছে গুরুত্বহীন হয়ে উঠতে পারে।
এছাড়া পর্নের প্রতি আসক্তি থাকলে স্বাভাবিক যৌনতার সময়, সহজে যৌন উত্তেজনা তৈরি হতে চায় না। আবার অনেকের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক যৌনতা শেষে চরম যৌন তৃপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এর অন্যতম কারন, পর্ন দেখার পর চরম যৌন তৃপ্তির জন্য অনেকেই হস্ত মৈথুনে অভ্যস্ত হয়ে পরে। যারা হার্ড সেক্স দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, তারা স্বাভাবিক জীবনে যৌনতার সময় সঙ্গীকে যৌন লাঞ্ছনা করতে চান। সেক্ষত্রে সঙ্গীর সঙ্গে তার বৈরিতা তৈরি হয়।
সাংসারিক জীবনে তিক্ততা মাথাচাড়া দেয়। তবে সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, যে সমস্ত নারী বা পুরুষ, বাস্তব জীবনে কোনও কারণে অপজিট সেক্সকে আকর্ষণ করতে ব্যর্থ, তারাই হার্ড সেক্স বেশি পছন্দ করেন। ফলে বাস্তবের যৌনতা তাকে চরম আনন্দ দেয় না। একারনে আসক্তির হাত থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পর্ন মানেই খারাপ এটা আদৌ বলা হয়নি।
উল্টে বলা হয়েছে, বাস্তবে যৌনতার অভাব থাকলে মাঝে মধ্যে পর্ন অনেকটা সেফটি ভালভের মতো কাজ করে। খুব টেনশনে থাকলে হস্ত মৈথুন কিছুটা টেনশন কমাতে সাহায্য করে। আবার কিছুক্ষন পর্ন ও হস্তমৈথুন অনেককেই ভালো ঘুমের পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে। কিন্তু আসক্তি যেন জীবনের অঙ্গ না হয়। বারবার সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।
