রানার ডেস্ক : বাংলাদেশের মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে ধর্ষণ করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সিরাজ নামে ওই মাদ্রাসা শিক্ষক নাকি ছাত্রীদের ওপর নিয়মিত ভাবে যৌন নির্যাতন চালাতো। কিন্তু নুসরাত এই অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে চেয়েছিল। অন্য মেয়েদের বাঁচানোর তাগিদে, সিরাজের নাম ফাঁস করে দিয়েছিল সে। তারপরই নুসরাত কে পুড়িয়ে মেরে দেয় সিরাজ।
এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে বাংলাদেশ। একদিকে ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে সরব সমাজের একাংশ আবার আর একটি অংশ সিরাজকে বাঁচাতে তৎপর। এমনকি সিরাজের পক্ষ নিয়ে কিছু মহিলা পথে নামায় বিস্মিত তসলিমা নাসরিন নিজের ব্লগে কলম ধরেছেন। তসলিমা লিখেছেন, অবিলম্বে সমস্ত মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।বাচ্চাদের পাঠানো উচিত সাধারণ, সেকুলার স্কুলে।
কারো ধর্ম সম্পর্কে জানতে হলে সেটা বাড়িতে বসে সম্ভব। কারন, ধর্ম বিস্বাস একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রতিদিনই খবর পাই মাদ্রাসা শিক্ষকরা ধর্ষণ করছে, খুন করছে। বাচ্চাদের সঙ্গে কি আচরণ করতে হয় এরা জানেই না, কারন এদের সেই শিক্ষাই নেই। এরা সব, ধর্মান্ধ, দুশ্চরিত্র, ধর্ষক আর খুনি। এদের হাতে যে বাবা-মায়ের ছেলে মেয়ে তুলে দেয় তাদেরও বুদ্ধির বলিহারি। তিনি লিখেছেন, ধর্ষকের সমর্থনে আবার কিছু বরখাওয়ালি রাস্তায় নেমেছে।
কেন,এরা ইতিমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বা হবে। এদের মাথার ভেতরে ঠিক কি আছে খুলি গুলো খুলে দেখতে ইচ্ছে করে। তসলিমার এই কঠোর মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়ে তুমুল বিতর্ক। তিনি সরাসরি মাদ্রাসা বন্ধের দাবি তোলায় মৌলবাদীরা ফের খড়গহস্ত হয়েছে তার ওপর।
তসলিমা আরো লিখেছেন, বাবা-মায়েদের বলছি বাচ্চাকে মাদ্রাসায় পাঠাবেন না। ওদের স্কুলে পাঠান। মাদ্রাসায় শুধু ভুল শিক্ষা পাবে, নির্যাতিত হবে, ধর্ষিত হবে, খুন হবে। মাদ্রাসায় যারা বাচ্চাদের শেখানোর দায়িত্বে তারা নিজেরাই ভালো কিছু জানে না। তবু মাদ্রাসাগুলো চলছে, সরকার এগুলি বন্ধ করছে না। কারন,সরকার ধর্ম বেঁচে খায়।
