রানার প্রতিবেদন : কোনও কারণে পুরুষাঙ্গহানির এবং আকারের যে সমস্যা, তার সমাধান করল আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। দৈহিক এই জটিল বিকৃতি দূর করতে আর কিছু দিনের মধ্যেই বাজারে আসছে কৃত্রিম লিঙ্গ। এমন আশার আলোই দেখাচ্ছেন মার্কিন গবেষকরা। ১৯৯৯ সাল থেকে এই বিষয় নিয়ে কাজ করছেন ড. অ্যান্থোনি আতালা। আর মাত্র পাঁচ বছরের অপেক্ষা।
তার মধ্যেই মানুষের দেহে সফলভাবে পেনিস ট্রান্সপ্লান্ট করা যাবে। জন্মসূত্রে অথবা দুর্ঘটনার জেরে বহু পুরুষেরই লিঙ্গ তার স্বাভাবিক গড়ন ও আকার থেকে বঞ্চিত হয়। আবার আকৃতিগত বিড়ম্বনা না থাকলেও দেখা দেয় উত্থান বা দৃঢ় হওয়ার সমস্যা। লিঙ্গকে শক্তসবল করার জন্য বিষণ্ণ পুরুষ তাই ট্যাবলেট খান, নানা তেল-মলম মালিশ করেন, অনেকে তো তাবিজ-কবচ-ঝাড়ফুঁকেরও শরণাপন্ন হন।
যৌনসংসর্গে অক্ষম হওয়ার জন্য বউ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে আকছার। এই জটিল গোপন সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে আমেরিকার উত্তর ক্যারোলিনার ওয়েক ফরেস্ট ইনস্টিটিউট ফর রিজেনারেটিভ মেডিসিন। বহু গবেষণার শেষে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ৬টি কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ দফতরের সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
ওয়েক ফরেস্ট ইনস্টিটিউট ফর রিজেনারেটিভ মেডিসিনের গবেষকদের মতে, জন্মসূত্রে অনেক পুরুষের লিঙ্গের আকার খুবই ছোট হয় যা মহিলাদের যৌনসুখ দিতে অক্ষম । আবার অনেকের সে-ধরনের সমস্যা না থাকলেও সঙ্গমকালে পুরুষাঙ্গের সঠিক দৃঢ়তা ও প্রয়োজনীয় উত্থান হয় না। এসব কারণে তাঁরা যৌনমিলনে সুখকর ভূমিকা পালন করতে অপারগ। লৈঙ্গিক এই অক্ষমতার কারণে মহিলাদের চাহিদা মেটাতে না পেরে হীনম্মন্যতায় ভোগেন তাঁরা।
বউ চলে যাওয়ার পিছনেও এর ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। এই গোপন ও স্পর্শকাতর সমস্যার সমাধান করবে কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ। মার্কিন গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রধানত হাত বা থাইয়ের পেশি থেকে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম লিঙ্গ গড়া হয়েছে। এর দৃঢ়তা ও উত্থান স্বাভাবিক করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে পেনাইল প্রস্থেটিক প্রযুক্তি। কৃত্রিম লিঙ্গের বহিরাঙ্গে পেশি সংযোগ গঠনকারী প্রোটিন কোলাজেন থেকে তৈরি এক বিশেষ কোষ তৈরি করা হয়েছে।
ড. আতালা জানিয়েছেন লিঙ্গ যতই ক্ষতিগ্রস্ত হোক না কেন, সেখানে উদ্ধারযোগ্য কিছু কোষ থেকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। ইতোমধ্যে তিনি ৬টি মানুষের লিঙ্গ তৈরিও করে ফেলেছেন। এই কোলাজেন প্রথমে সংগ্রহ করা হয় কোনও স্বাভাবিক পুরুষাঙ্গের কোষ থেকে। এরপর দাতা কোষগুলি থেকে তার ডিএনএ রাসায়নিক উপায়ে ধুয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
তারপর রোগীর দেহে অবস্থিত লিঙ্গ অথবা অঙ্গহানির ক্ষেত্রে লিঙ্গের অবশিষ্ট অংশ থেকে সংগ্রহ করা কোষের সঙ্গে সেই কোলাজেন মিশিয়ে তা রোগীর দেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়। গবেষকদের দাবি, ইতোমধ্যে খরগোশের ক্ষেত্রে কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ ব্যবহার করে দুর্দান্ত সুফল পাওয়া গিয়েছে। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ দফতরের সম্মতি মিললে তা যৌনমিলনে অক্ষম মানুষের উপকারে আশবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
