রানার ডেস্ক : এতদিন ভারত সরকার দাবি জানিয়ে এসেছে বিশ্ব বিখ্যাত কোহিনুর হিরের আসল মালিক ভারত এবং ওই মহার্ঘ বস্তুটি ভারতের হাতেই তুলে দেওয়া উচিত। যদিও এনিয়ে এখনো ভারতের দাবিকে আমল দেয়নি ব্রিটেন, এরই মধ্যে হাজির হলো নতুন দাবিদার। পাকিস্তানের বক্তব্য কোহিনুর পাকিস্তানের প্রাপ্য এবং ওটা লাহোর সংগ্রহশালায় ফিরিয়ে দেওয়া উচিত ব্রিটিশ সরকারের।
হটাৎ এই দাবিতে হতচকিত ভারত। দিল্লি চিরকাল দাবি করে এসেছে যেটা নিয়ে সেটার ওপর নতুন দাবিদার চলে আসায় রসিকতাও করছেন দিল্লির আমলারা। তারা বলছেন, পাকিস্তান যে যুক্তিতে কোহিনুর চাইছে, সেই একই যুক্তিতে আবার বাংলাদেশ না দাবি করে বসে। পাকিস্তানের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ফুয়াদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেছেন, জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের সেই কালো অধ্যায়ের শতবর্ষ এই বছর।
ব্রিটিশ সরকারের উচিত এই ঘটনার জন্য ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চাওয়া। তাদের উচিত অবিলম্বে কোহিনুর হিরের যারা আসল মালিক সেই পাকিস্তানকে তার জিনিস ফিরিয়ে দেওয়া। কোহিনুর থাকবে লাহোর মিউজিয়ামে, দাবি ফুয়াদের। যদিও কোহিনুর নিয়ে এখনো ব্রিটিশ সরকার কোনও সাড়াশব্দ করেনি। এখনও ব্রিটিশদের হাতেই আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিরের টুকরো।
ইতিহাস অনুযায়ী, কোহিনুর পাওয়া গিয়েছিল ১৪০০ সাল নাগাদ গোলকুন্ডার খনিতে। ১০৮ ক্যারেটের এই বিশাল হিরে ছিল মালোয়ার রাজ বংশের হাতে। তারপর সেটার দখল নেয় মুঘলরা। মুঘল সাম্রাজ্যের শেষদিকে নাদির শাহ লুট করে নিয়ে যায় ইরানে। পরে সেটা হস্তগত হয় আফগানিস্তানের। মহার্ঘ হিরের দিকে নজর ছিল অনেকেরই।
যুদ্ধে হারিয়ে আফগানদের কাছ থেকে হিরে ছিনিয়ে আনেন শিখ সম্রাট রঞ্জিত সিং। কিন্তু ১৮৫০ সালে ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে কোহিনুর তাদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন শিখ রাজা দলীপ সিং। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সেই কোহিনুর উপঢৌকন হিসাবে তুলে দেয় রানী ভিক্টরিয়ার হাতে। সেই থেকে কোহিনুর ব্রিটিশদের কব্জায়।
