রানার প্রতিবেদন : তাজ্জব কি বাত! সকলেই জানেন, কিং খানের যে কয়েকজন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছেন তাঁদের মধ্যে কাজল একজন। আর এই কাজলের নামেই কি না নিন্দামন্দ করলেন শাহরুখ? হ্যাঁ সত্যি। তবে সেটা এখন নয়, সেই ‘বাজিগর’ মুভির শুটিংয়ের সময়ে। আসলে এখন লকডাউনের বাজারে ঘরে বসে বসে তারকাদের আর সময় কাটছে না।
কী আর করবেন? সকলেই অতীতের স্মৃতিচারণা করছেন। সেরকমই স্মৃতিতে ডুবে গেছেন কিং খানও। ১৯৯২ সালের কথা। বড়পর্দায় প্রতিষ্ঠা পেতে শাহরুখ, কাজল, আমির সকলেই রীতিমতো লড়াই করছেন। তখন সদ্য শাহরুখ আর কাজলের ‘বাজিগর’-এর শুটিং শেষ হয়েছে। আমির খান শাহড়ূখেড় কাছে জানতে চেয়েছিলেন সহশিল্পী হিসাবে কাজল ঠিক কেমন।
আর তখনই কিং খান বলেছিলেন, ‘একদম ভালো নয়। খিটখিটে মেজাজ। সেটে সারাদিন বকবক করে। পরিশ্ৰম করে ঠিকই, তবে অভিনয়প্রতিভা কতটুকু কী আছে তা-ও বুঝতে পারছি না। তুমি বরং অন্য সহশিল্পী দেখো। কাজলকে ভূলেও নিও না।‘ এর কিছুদিন পরেই শাহরুখ ‘বাজিগর’-এর রাশফুটেজ দেখেন।
আর পর্দায় কাজলকে দেখে তো থ! বুঝলেন এই মেয়ে থাকার জন্যই এসেছে। অসাধারণ এক প্রতিভা। ভেঙে গেল শাহরুখের সমস্ত ভুল ধারণা। সঙ্গে সঙ্গে আমিরকে ফোন করে জানালেন, ‘এই মেয়ে বড়পর্দাকে বশ করতে জানে। মনে হচ্ছে ও বড়পর্দার নতুন সম্রাজ্ঞী হবে। একটু খিটখিটে হলেও অসম্ভব মেধাবী কাজল।
আমি আগে যা বলেছিলাম তা ছিল ভূল।‘ ব্যস সেই থেকে বদলে গেল কাজল সম্পৰ্কে শাহরুখের ধারণা। আর ‘বাজিগর’ থেকে বলিউড পেল তরতাজা এক নতুন জুটিকে। কাজল সম্পৰ্কে নিজের ভুল ধারণা নিয়ে শাহরুখ আর কাজল পরেও একাধিকবার নিজেরা অনেকবার হাসিঠাট্টা করেছেন।
এরপর একের পর এক হিট ছবি দৰ্শকদের উপহার দিয়েছেন এই জুটি। ‘করন অর্জুন’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘দিলওয়ালে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ আরও কত কী। তাই তো পরে একাধিকবার শাহরুখ বলেছেন, ‘প্রথম দেখাতেই কাউকে অল্প জেনে কারও সম্পৰ্কে কোনও মন্তব্য করা ঠিক নয়।‘ সত্যিই এটা তাঁর থেকে ভালো আর কে বুঝবে।
