টুইটেই দায়সারা নয়, যৌন হেনস্থা রোধে বেনজির লড়াই জোলির

|

রানার প্রতিবেদন : যুদ্ধবিধ্বস্ত, পিছিয়ে পড়া দেশগুলোতে মেয়েদের অবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বরাবরই এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তিনি, মানে হলিউড অভিনেত্ৰী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। আফগানিস্তানে মেয়েদের স্কুল তৈরি করেছেন। গিয়েছিলেন সিরিয়াতেও। এবার তিনি মুখ খুললেন যুদ্ধের সময় মেয়েদের ওপর চলা নৃশংস যৌন হেনস্তা নিয়ে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে কীভাবে মেয়েদের ওপর যৌন অত্যাচার ও ধৰ্ষণকে অস্ত্ৰ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আর তারপর তা ধামাচাপা পড়ে যায়। যুদ্ধ, হত্যার কথাই উঠে আসে সংবাদপত্ৰের শিরোনামে। যৌন অত্যাচারের কোনও তদন্ত হয় না। অপরাধীরা মাথা তুলে বেড়ায় প্রকাশ্যে। হলিউড অভিনেত্ৰী জানিয়েছেন, ‘কড়া পদক্ষেপ জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে যখন কোনও দেশে যুদ্ধ লাগলে, কোনও ব্যক্তি ধৰ্ষণ করার আগে ঘটনার পরিণতি কত ভয়ানক হতে পারে, সে সম্পৰ্কে ওয়াকিবহাল থাকবে।

আর একজন মহিলাওতাঁর নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকবেন। জানবেন কেউ তাঁর ক্ষতি করতে পারবে না। যদি তেমন কিছু হয় তবে অপরাধী যথেষ্ট শাস্তি পাবে। এই উদ্দেশে বসনিয়া-হাৰ্জেগোভিনাতেও যান অ্যাঞ্জেলিনা। দেশটার এক পাশে ক্ৰোয়েশিয়া। আর এক পাশে সাৰ্বিয়া। ১৯৯৫ সালে সাৰ্বিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে এই বসনিয়ার সেব্ৰনিকায় গণহত্যা হয়, মারা যায় ৮০০ নাগরিক।

কিন্তু ধামাচাপা পড়ে যায়, কীভাবে হাজার হাজার মহিলা ধৰ্ষণ করে সেনা। সেব্ৰনিকা ম্যাসাকার নামে কুখ্যাত ইতিহাসের ওই অধ্যায়। কিন্তু কোথাও মেয়েদের গনধর্ষণের উল্লেখ নেই। এই সেব্ৰনিকার মেয়েদের সঙ্গেই কথা বলেন অ্যাঞ্জেলিনা। বৈঠক বসেছিল পরিত্যক্ত একটা কারখানায়। এই কারখানাতেই ১৯৯৫-এর জুলাই মাসে আশ্ৰয় নিয়েছিলেন কয়েক হাজার লোক।

রাষ্ট্ৰসংঘের ওলন্দাজ দূতদের কাছে নিরাপত্তা ভিক্ষা চান তাঁরা। কিন্তু সাৰ্বিয়ার সেনার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি ওলন্দাজরা। এখন সেখানে বিশাল পাথরে খোদাই করা ৮০০ ছেলে-বুড়োর নাম। কিন্তু ওই পৰ্যন্তই। মেয়েদের কথা কোথাও লেখা নেই। অ্যাঞ্জেলিনাকে সামনে পেয়ে নিজেদের কথা উজাড় করে জানান সেব্ৰনিকার মেয়েরা। এমনই এক মহিলা এডিনা।

সাৰ্বিয়ার সেনারা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এক খনি এলাকায়। ‘ওরা বহু বার ধৰ্ষণ করে আমাকে। আরও দুটো মেয়ের ওপর অত্যাচার চলছিল পাশেই। তারপর আমাদের একটা পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আট দিন বন্দি ছিলাম। আর সেই সঙ্গে চলে টানা অত্যাচার, ধর্ষণ,’ বলেছেন এডিনা। তাঁর কথায়, ‘যখন এসব চলছিল, আমি যেন আমার শরীরে ছিলাম না। বাইরে থেকে নিজের ক্ষতবিক্ষত দেহটা দেখতে পেতাম। কেউ রক্ষা করতে আসেনি।

‘এডিনার ধৰ্ষকদের কোনও সাজা হয়নি। তিন ধর্ষককে দেখলে এখনও তিনি চিনতে পারবেন, জানান মহিলা। কয়েক মাইল দূরে একটা শহরে থাকে তাঁরা, এডিনা সবটাই জানেন। বলেন, ওরা ফেসবুকেও আছে। সেইসঙ্গে এডিনা বলেছেন, ‘ওরা লজ্জা পাবে। আমার লজ্জা পাওয়ার তো কোনও কারণ নেই।‘২০,০০০ মেয়ে বসনিয়ায় ধৰ্ষিতা হয়েছিল সে বছর।

গত দুদশকে কঙ্গোয় ২ লক্ষেরও বেশি নারী ধর্ষিতা, নিৰ্যাতিতা হয়েছেন। আফ্ৰিকার রোয়ানডায় ধৰ্ষিতার সংখ্যা সোয়া ৫ লক্ষ। এই মুহূৰ্তে যেমন সিরিয়ায় প্রতিদিন ধৰ্ষিতা হচ্ছেন বহু মহিলা। অ্যাঞ্জেলিনা জানান, এডিনার মতো সবাই হয়তো এগিয়ে এসে এত স্পষ্ট ভাবে নিজের ধৰ্ষণের প্রতিবাদ করবেন না। কিন্তু কোথাও একটা এর শেষ হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন