নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ঘূর্ণিঝড়, বন্যার কবল থেকে উপকূলবর্তী অঞ্চল বাঁচাতে বিশেষ কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প ( Coastal Zone Management Project ) নিল রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ ( Mangrove ) চারা বসানোর কর্মসূচি নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee ) সরকার। প্রকল্পের পোশাকি নাম, ‘প্রাকৃতিক দূর্যোগে প্রকৃতি সহায়’। যা আগামী দিনে যে কোনও ঝড়কে ধ্বংসলীলা চালানোর থেকে রুখে দিতে পারবে।
বেচেঁ যাবে গাঙ্গেয় উপকূলবর্তী এলাকাগুলি। সম্প্রতি পরিবেশ দপ্তর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিল দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ( Pollution Control Board )। দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব বিবেক কুমার জানিয়েছেন, সাগর, দীঘা এবং সুন্দরবনের উপকূলবর্তী অঞ্চলে কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, পূর্ব কলকাতার বিস্তীর্ণ জলাভূমিকে রক্ষা করতে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কেএমডিএ ( Kolkata Metropolitan Development Authority ) এবং কলকাতা পুরসভার( KMC ) সহযোগিতায় সেখানে কাজ চলবে।
দূষন নিয়ন্ত্রন পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যান রুদ্র দাবি করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন ৪৯ শতাংশ কমানো না গেলে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি বেড়ে যাবে। এমনিতেই গত ৪৬ বছরে পৃথিবীর বুক থেকে ৬৮ শতাংশ পাখি এবং অন্যান্য কীটপতঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ১০ লক্ষ প্রাণী পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যাবে।
পরিবেশমন্ত্রী রত্না দে নাগ ( Ratna De Nag ) এই বিষয়ে জানান, কোনও সরকারের একার পক্ষে পরিবেশ দূষণের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সকলকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। আমরা বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়িত করা হবে। এমনিতেই অনেক জায়গাতেই ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে নানা ধরনের কাজ চলেছে। ফলে নতুন করে ম্যানগ্রোভ বৃক্ষরোপণ করা হবে।
হেতাল, কেওড়া, সুন্দরী, গরান, গেওয়া সহ নানা ধরনের ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। যে কারণে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কম থাকে। এই ধরনের গাছের শিকড় মাটির গভীরে গিয়ে মাটি শক্ত করে ধরে রাখে। ফলে, ভূমিধস কিংবা ভাঙ্গনের প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়।
