রানার ডেস্ক : দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিখ্যাত সরিষা রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে অবৈধভাবে চলছে জমি দখলের কাজ। এই অবৈধ কাজে বাঁধা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন মিশনেরই এক সন্যাসী। সরিষা রামকৃষ্ণ মিশনের গেটের সামনে ডাই করে রাখা ছিল নির্মাণ সামগ্রী। মিশনের গেট থেকে বেরিয়ে তা নজরে আসে এক সন্যাসীর।
তিনি প্রশ্ন করতেই শ্রমিকরা জানায়, এখানে তারা রহমতুল্লার নির্দেশে কাজ করছেন। রাস্তা পেরিয়ে সন্যাসী যান রহমতুল্লার খোঁজ করতে। নির্মাণ কাজ চলছিল প্লাস্টিক দিয়ে ঘেরাটোপ বানিয়ে। সন্যাসী প্লাস্টিক সরাতেই জোর ধাক্কা। একজন যিনি ছবি তুলছিলেন তিনি প্রতিবাদ করেন। বলেন, মহারাজ শুধু জিজ্ঞাসা করেছেন , আপনি মারছেন কেন? তখন চাপা গলায় সেই ব্যক্তি হুমকি দেন, ক্যামেরা বন্ধ করুন।
তারপর ছবি বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেছে, মিশনের সামনে কিছুটা ফাঁকা জমি আছে। ফাঁকা জমির পর চওড়া রাস্তা। রাস্তার ওপরেও কিছুটা ফাঁকা জমি তারপর ড্রেন। ড্রেনের ওপারে সরকারি দালান। যে জমি খালি পরে আছে মিশনের সামনে সেটা রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন। দীর্ঘ বছর ধরেই মিশনের সামনে সেই জমি থাকলেও তাতে কোনও দিনই কোনও নির্মাণ কাজের অনুমতি দেয়নি রাজ্য সরকার।
তাহলে সরকার হটাৎ সেই জমিতে কি করতে চাইছে? এই প্রশ্নের উত্তরে জানা গেল, সরকার কিছুই করছে না। কিছু দুষ্কৃতী ওই জমি দখল করতে উঠেপরে লেগেছে। সেখানে দালান তুলে দোকান ঘর বানিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা আছে বলে জানা গেছে। মিশনের সামনে এভাবে সরকারি জমি দখল হচ্ছে দেখে আপত্তি তুলেছিলেন মিশনের সন্যাসিরা।
তাদের কোনও আপত্তি কাজে আসেনি। মিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। মিশনের সামনে অবাধে চলেছে জমি দখল। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, কোনও রাজনৈতিক শক্তির মদত না থাকলে জমি মাফিয়ার এভাবে দাপট দেখাতে পারতো না। প্রশাসনও এভাবে চোখ বুজে থাকতে পারতো না।
