রানার প্রতিবেদন : ইতিমধ্যেই বিহারে স্থাপন করা হয়েছে তাঁর একটি মূর্তি। এবার তেলেঙ্গানার সিড্ডিপেট জেলার দুব্বা টান্ডা গ্রামের স্থানীয়রা তৈরি করেছে সোনু সুদের এক মন্দির। লকডাউনের সময় দেশবাসীর কাছে মসিহা হিসেবে হাজির হয়েছিলেন তিনি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ী শ্রমিকরা যেখানেই আটকে ছিলেন, তাঁদের সুস্থভাবে বাড়ি পৌঁছনোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন পর্দার খলনায়ক সোনু।
এখানেই শেষ নয়, যে যখন বিপদের কথা সোনুকে জানিয়েছেন, তিনি সেখানেই পৌঁছে গিয়েছেন দেবদূতের মতো সাহায্যের হাত নিয়ে। এজন্য দেশবাসী তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু শুধু প্রশংসায় সন্তুষ্ট থাকেনি তেলেঙ্গানার একটি গ্রাম। তাঁর এই অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে তেলেঙ্গানার মানুষ তৈরি করেছেন এক সুরম্য মন্দির। স্থাপিত হয়েছে অভিনেতা সোনু সুদের মূর্তিও।
কেরালার সিদ্দিপিট জেলার দুব্বা টান্ডা গ্রামের স্থানীয়রা মিলে তৈরি করেছেন এই অভিনব মন্দির। ঘটা করে তার উদ্বোধনও হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সোনু সুদ করোনাকালীন অতিমারি পরিস্থিতিতে প্রচুর অসহায় মানুষকে সাহায্য করেছেন। তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপই তাঁরা অভিনেতার জন্য মন্দির তৈরি করেছেন, মূর্তি গড়েছেন। এই ঘটনায় অবশ্য সোনু সুদ খুব লজ্জিত।
তিনি জানিয়েছেন, এটা তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত, কিন্তু এতটা সম্মান তাঁর প্রাপ্য নয়। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই তিনি সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি দক্ষিণী ছবি ‘আচার্য’র শুটিং চলছিল। ছিলেন সোনু সুদ আর দক্ষিণের সুপারস্টার চিরঞ্জীবী। চিরঞ্জিবী সোনুকে বলেন, ‘তোমায় কোনও ছবিতে নেওয়া একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ তোমাকে আমি ভাই অ্যাকশন দৃশ্যে রাখতে পারব না। ছবিতে আমি যদি তোমায় মারি, তাহলে পাবলিক আমায় অভিশাপ দেবে।’
এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় সোনু সুদ নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সেপ্টেম্বর মাসেই সোনুর এই মহান কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। তাঁকে রাষ্ট্রপুঞ্জের শাখা সংগঠন ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের তরফে পুরস্কৃতও করা হয়েছে। এসডিজি (সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) স্পেশাল হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হয়েছেন সোনু, যা এক বিরল প্রাপ্তি।
অসহায়, ভুখা পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি তাঁর অনেক সম্পত্তি বন্ধক রেখেছেন অভিনেতা বলে শোনা গিয়েছে। জুহুর শিবসাগর এলাকায় ছ’টি ফ্লোর কিনেছিলেন সোনু । এছাড়া গ্রাউন্ড ফ্লোরে দু’টি দোকানেরও মালিকানা রয়েছে তাঁর হাতে। এসবই বন্ধক দিয়েছেন তিনি। এমনকি স্ত্রীর একাধিক সম্পত্তিও বন্ধক রেখেছেন।
ইসকন মন্দিরের কাছে এবি নায়ার রোডে কিছু সম্পত্তি রয়েছে তাঁর স্ত্রী সোনালির। পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে সেগুলিও বন্ধক রাখেন সোনু। এসব বন্ধক রেখে অভিনেতা পান ১০ কোটি টাকা। সেটি তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কাজে লাগান।
