#ডেঙ্গু : করোনার মত ডেঙ্গুতেও ‘সুপার স্প্রেডার’ ( Super Spreader )! কলকাতা পুরসভা ( KMC ) নিজের গবেষণায় তেমনটা পেয়েছে। এক্ষেত্রেও উপসর্গহীন মানুষ বাহকের ভূমিকায়। তার দেহ থেকে ডেঙ্গু ( Dengue ) ছড়ানোর এডিস মশা ( Aedes Mosquito ) মারফত রোগ ছড়াচ্ছে অন্যের শরীরে। কিন্তু এই নীরব বাহকদের চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।
তাই বছরভর সেই মশা দমনেই বেশি জোর দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। করোনার ক্ষেত্রে উপসর্গহীন মানুষ সাইলেন্ট ক্যারিয়ার ( Silent Carrier ) বা নীরব বাহক হিসেবে চিহ্নিত। ডেঙ্গু সংক্রমণেও বড় ভূমিকায় থাকে এই ‘সুপার স্প্রেডার’রা। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ জানাচ্ছে, চলতি বছর শহরের ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধ যথেষ্ট সন্তোষজনক।
এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৫২ জন। কিন্তু সন্তুষ্টিতে ভোগার কোনও জায়গা নেই বলেই মানছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। আধিকারিকদের বক্তব্য, শহরে প্রতিদিন অন্তত ৬০-৭০ লক্ষ মানুষ বাইরে থেকে শহরে আসে। জীবিকা বা অন্যান্য প্রয়োজনে তারা এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করেন। এদের মধ্যে অনেকের শরীরেই থাকছে ডেঙ্গুর বিজানু। কিন্তু তাঁরা উপসর্গহীন হয়ে সাইলেন্ট ক্যারিয়ার হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
সেই মানুষকে যখন এডিস মশা কামড়াচ্ছে, তার রক্তে থাকা ডেঙ্গুর জীবাণু যাচ্ছে মশার শরীরে। তারপর সেই মশা অন্যত্র উড়ে যাচ্ছে। অন্যেকে কামড়ে তাঁর রক্ত ঢুকিয়ে দিচ্ছে ডেঙ্গু । কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতনু ঘোষ বলেন, সাইলেন্ট ক্যারিয়ারদের ধরা মুশকিল। সেই কারণেই মশা দমনে জোর দেয় পুরসভা।
ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ৬-১৫ জন ফিল্ড কর্মী নিয়মিত ডেঙ্গুর মশা দমনে কাজ চালায়। কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরো অ্যাকশন টিম এবং আরও ১৬টি কেন্দ্রীয় রেপিড অ্যাকশন টিম শহর জুড়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত টালি নালা, বেলেঘাটা, বাগজোলা, চড়িয়াল বিভিন্ন নিকাশি খালে ২০টি নৌকা দিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়।
এই নিরব বাহকদের ধরাও মুশকিল। সেই কারণেই পুরসভা জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর, সারাবছর মশা দমনের কাজ চালিয়ে যায়। যার জন্য তৈরি হয়েছে আধুনিক পরিকাঠামো। কলকাতা পুরসভার ভেক্টর কণ্ট্রোল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড : দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, পৃথিবীতে ৩৯ কোটি মানুষ প্রতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়।
৯ কোটি ৬০ লাখ মানুষের দেহে উপসর্গ দেখা যায়। ২৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষের দেহে দেখে উপসর্গ থাকে না। এরাই হল ‘সুপার স্প্রেডার’। এক জায়গা থেকে অন্যত্র এরাই নিরব বাহক হয়ে রোগ ছড়াচ্ছে, তাঁকে তো চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।
