মুকুল-শুভেন্দুর মোকাবিলা নিজেই করবেন মমতা, সড়তে হবে মহুয়াকে

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : জানাই ছিল থাকবে বড় চমক। কড়া নিদান দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee )। কিন্তু শুধু চমক নয়। শেষ পর্যন্ত গোটা সংগঠনের খোলনলচে বদলে ঝাঁকুনি দিলেন তৃণমূল নেত্রী। শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংগঠনিক বৈঠক মমতা জানিয়ে দিলেন, এবার কার্যকর হবে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি। সূত্রের খবর, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, মন্ত্রী থাকলে জেলা সভাপতি হওয়া যাবে না।

আগামী এক মাসের মধ্যে কোথায় কোথায় করা জেলা সভাপতি থাকবে সেটা চূড়ান্ত করে দল ঘোষণা করে দেবে। পাশাপাশি, জেলা স্তরের সংগঠনেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। তৃণমূল সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে পর্যবেক্ষক পদ ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন জেলায় সভাপতির পাশাপাশি থাকবে একজন করে পর্যবেক্ষক। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এই পদ তৈরি হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসে।

কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই পথ বিলুপ্ত করে দেন মমতা। ফের সেই পর্যবেক্ষক পদ ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তৃণমূলের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, দল আড়ে-বহরে বেড়েছে। সবাইকে সন্তুষ্ট করতে হবে। কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। তৃণমূল সূত্র বলছে, উত্তর ২৪ পরগণার জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক মন্ত্রী রয়েছেন। তাঁকে বনমন্ত্রীর পদে রেখে জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরানো হতে পারে। দায়িত্ব পেতে পারেন পার্থ ভৌমিক।

স্বপন দেবনাথ বর্ধমান গ্রামীণের জেলা সভাপতি। আবার রাজ্যের মন্ত্রীও। তাঁর জেলা সভাপতির দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হতে পারে। নদীয়াতে দল আশানুরূপ ফলাফল করেনি। ফলে, নদীয়া জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরানো হতে পারে মহুয়া মৈত্রকে ( Mahua Mitra )। ঠিক সেভাবেই যেসব জেলায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সন্তোষজনক রেজাল্ট (Result) করেনি, সেখানে সাংগঠনিক দায়িত্ব বদল ঘটানো হবে। বিশেষ করে দুই মেদিনীপুর এবং নদীয়াতে সংগঠনে জোর দেওয়া হচ্ছে।

একদিকে মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari ) এবং অন্যদিকে নদীয়াতে মুকুল রায় ( Mukul Roy )। দুজনকে সামলাতে এই জেলার সংগঠন খোদ নিজের হাতে রাখতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, জেলা সভাপতির পাশাপাশি এই তিন জেলায় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিজেই থাকবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পাশাপাশি এই দিনের বৈঠকে একাধিক রদবদল হয়েছে সংগঠনে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ( Abhishek Banerjee ) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : এই পথ এখন শেষ, প্রকাশ্যে আসছে দিলীপ-লকেট দ্বন্দ্ব

যুব তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব পেয়েছেন আসানসোলের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ ( Saayani Ghosh )। এছাড়াও শ্রমিক সংগঠন, কৃষি, সংস্কৃতি সহ একাধিক সংগঠনের দায়িত্ব বদল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে কোনও মন্ত্রী গাড়িতে লালবাতি লাগাতে পারবে না। সাত দিনের মধ্যে পরিবহন দপ্তরের গাইডলাইন বিশ্ব বাংলা লোগো সম্বলিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশেষ স্টিকার লাগাতে হবে।

আরও পড়ুন