রানার ডেস্ক : ধীরে ধীরে চিনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে তিক্ততা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। করোনা নিয়ে যে বিতন্ডার সূত্রপাত সেটার সঙ্গে এখন একে একে যোগ হয়ে যাচ্ছে অন্যান্য বিতর্কিত ইস্যু। করোনার প্রসঙ্গ তুলে আমেরিকা একইসঙ্গে টেনে এনেছে হংকং এবং তাইওয়ান সমস্যাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য, চিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা হংকং-এর স্বশাসন রক্ষা করে চলবে, কিন্তু বেইজিং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, এখন চিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার সময় এসেছে।
আমেরিকা সেই পদক্ষেপ নেবে। একইসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকার নিরাপত্তার স্বার্থেই এখন থেকে চিনা নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। ফলে এখন থেকে যে কোনও চিনা নাগরিকের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে আমেরিকা। করোনা নিয়ে চিনকে একহাত নিয়েছে আমেরিকা।
সেইসঙ্গে চিনের আঙ্গুলি হেলনেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা “হু”এনিয়ে গোটা বিশ্বকে ভুল পথে চালিত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে এবং হু-কে অর্থ সাহায্য দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর আমেরিকা হু-কে ৪৫ কোটি ডলার দিয়ে থাকে। এই বিপুল অর্থ আচমকাই বন্ধ করে দেওয়ায় হু আর্থিক সমস্যায় পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কি করে করোনা ছড়ালো এবং চিন ইচ্ছে করে এই কান্ড করলো কিনা তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা চলেছে।
এনিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছে বিশ্বের বেশকিছু দেশ। যাদের মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। আছে আমেরিকা এবং ভারতও। শুধু করোনা কিংবা হংকং নয়, তাইওয়ান নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে চিনের সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি চিনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ বৈঠকে চিনা প্রেসিডেন্ট দেশের সামরিক নেতৃত্বকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, তাইওয়ান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই হয়ত এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা ঘোষণা করেছে, তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনও আক্রমণ রুখে দিতে প্রস্তুত আমেরিকা। সম্প্রতি তাইওয়ান সীমান্তে সেনা তৎপরতা বাড়িয়েছে চিন। তারপর থেকেই সীমান্তে ব্যাপক সেনা মহড়া শুরু করেছে আমেরিকা। তাইওয়ানে বিশাল সেনা ঘাঁটি আছে আমেরিকার। ওয়াসিংটন-এর মেজাজ মর্জি বুঝেই সেনাকে চূড়ান্ত সতর্ক করেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট।
