জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডের জের, পুরসভায় চালু হচ্ছে ভিজিটরস স্লিপ

|

কলকাতা : কসবা কাণ্ডের জের। সতর্ক হল কলকাতা পুরসভা ( Kolkata Municipal Corporation )। পুরসভার যত্রতত্র যাকে তাকে আর ঘোরাঘুরি করতে দেওয়া হবে না। ফের ভিজিটরস স্লিপ ( Visitors Slip ) ফিরিয়ে আনছে কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষ। কেন এসেছেন, কী দরকার, কার কাছে যাবেন, যাবতীয় তথ্য নথিভুক্ত করে ভিজিটরস স্লিপ নিয়ে তবেই ঢুকতে হবে। তার আগে থাকবে কড়া পাহারা।

প্রত্যেককে তল্লাশি করে তবেই কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে ঢুকতে দেওয়া হবে। এমনই অলিখিত নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুরসভা ( KMC ) কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি জাল টিকা ( Fake vaccine Scandal ) কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে ( Debanjan Deb ) নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের একাধিক সদস্য এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। কলকাতা পুরসভার কনফারেন্স রুমে এসে প্রশাসক বোর্ডের মুখ্য সদস্য ফিরহাদ হাকিমের হাতে মাস্ক – স্যানিটাইজার তুলে দিয়েছিলেন দেবাঞ্জন।

সেই ছবি সামনে আসতে বিব্রত সরকারপক্ষ। এই অবস্থায় পুর ভবনের নিরাপত্তা কড়া করছে কলকাতা পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকরা। ঠিক হয়েছে, নতুন করে চালু হবে ভিজিটরস স্লিপ ( Visitors Slip )। এটা বহুদিন আগেই চালু ছিল। কিন্তু মাঝখানে তুলে দেওয়া হয়। ফের আবার এই পদ্ধতি ফিরিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। উপরে প্রশাসক বোর্ডের সদস্যদের ঘরে ঢুকতে গেলে খাতায় নাম নথিভুক্ত করতে হবে। সেইমতো মিলবে পুরসভায় ঢোকার অনুমতি।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া নাও ঢুকতে দিতে পারেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এক নিয়ম কার্যকর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রেও। পুর কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, কিংবা জয়েন্ট কমিশনার প্রত্যেকের সঙ্গে বৈঠক করতে গেলে ভিজিটর স্লিপ বাধ্যতামূলক। এক শীর্ষকর্তা বলেন, মানুষ ঠোকে শেখে। ওই ব্যক্তি সকলের সঙ্গে সদ্ভাব গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয় সামনে আসার পর আমরা নিজেরাও হতবাক। একের পর এক ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার নাম জড়াচ্ছে।

সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই ভিজিটরস স্লিপ চালু করার উদ্যোগ। বলা ভালো আরও সতর্ক থাকা। যদিও এটা কতদিন ধরে রাখা যাবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে প্রশাসনিক মহলের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, এর আগেও চালু হয়েছিল। কিন্তু সরকারি কাজের পাশাপাশি বহু ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকরা পুরসভায় এসে ভিড় জমান। সেক্ষেত্রে একটা ফোনেই কাজ হয়ে যায়। হয়তো দেবাঞ্জন এভাবেই নিজের রাজনৈতিক কোনও যোগসূত্র ব্যবহার করে পুরসভার ঢুকেছিলেন।

আরও পড়ুন