কলকাতা : ভেজাল টিকা ( Fake Vaccine ) কাণ্ডের মূল পাণ্ডা দেবাঞ্জন দেবকে ( Debanjan Deb ) নিয়ে কলকাতা কর্পোরেশনের থেকে একাধিক বিষয় জানতে চাইল কলকাতা পুলিশের ( Kolkata Police ) বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট ( SIT )। দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ( TMC ) ছোট থেকে শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের যোগাযোগ প্রকাশ পেয়েছে। সাংসদ, বিধায়ক থেকে কাউন্সিলর সকলের সঙ্গেই ঘনিষ্ট ছিল দেবাঞ্জন।
যাদের দৌলতে কলকাতা কর্পোরেশনের নামে অফিস চালাচ্ছিল ওই প্রতারক। পাশাপাশি কলকাতা কর্পোরেশনের যুগ্ম কমিশনার পরিচয় দিয়ে ভুয়ো পরিচয় পত্র বানিয়েছিল দেবাঞ্জন। এমনকি কর্পোরেশনের লোগো দেওয়া মাস্ক, স্যানিটাইজার বিলি করেছিল প্রতারক দেবাঞ্জন। কিভাবে দেবাঞ্জন কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation ) এইসব জিনিস জোগাড় করেছিল তা জানতে উঠে পড়ে লেগেছে পুলিশ।
তাহলে কি পুরসভার কোন কোন বার শীর্ষ আধিকারিক দেবাঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেই প্রশ্ন উঠেছে বারবার। শেষমেষ তদন্তে লালবাজার কয়েকটি প্রশ্নের জবাবদিহি চেয়ে চিঠি পাঠালো কলকাতা কর্পোরেশনকে। কর্পোরেশন সূত্রে খবর ওই চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, ১) দেবাঞ্জন দেবকে কলকাতা পুরসভার শীর্ষ কর্তৃপক্ষ কর্মী হিসেবে অথবা যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কোনও কার্ড ইস্যু করেছিল কিনা?
২) পুরসভার কর্মী নন, এমন কাউকে ‘পুরশ্রী বিবর্ধন’ লোগো, যা পুরসভা ব্যবহার করে সেই হলোগ্রাম কর্তৃপক্ষ কাউকে দিয়েছিল কিনা। যার থেকে দেবাঞ্জনের হাতে সেটি গিয়েছিল, নাকি পুরসভা থেকেই তাঁকে দেওয়া হয়েছিল? ৩) কসবার শান্তি পল্লীতে কলকাতা কর্পোরেশনের কোন স্পোর্টস একাডেমী রয়েছে ? সেই স্পোর্টস একাডেমীর নামে কোন লেটার প্যাড ব্যবহার করত কলকাতা কর্পোরেশন ?
৪) ইন্ডিয়ান এক্সচেঞ্জ প্লেসের যে ঠিকানা থেকে দেবাঞ্জন দেব হলোগ্রাম পেয়েছিল, কলকাতা কর্পোরেশনের কি কোন ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছিল? ৫) শরণ্যা আঢ্য নামে কলকাতা পুরসভায় কি কোনও কর্মী রয়েছে ? বা এই নামে কাউকে কোনও আইডি কার্ড কি দেওয়া হয়েছিল ? কলকাতা কর্পোরেশনের কমিশনার এবং বিশেষ কমিশনারের কাছে এই প্রশ্নগুলিরই উত্তর জানতে চাইল কলকাতা পুলিশ।
যদিও কলকাতা পুরসভার এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশকে তদন্তে সবরকম সাহায্য করা হবে। যা যা প্রশ্ন করা হয়েছে সবকটির উত্তর জানিয়ে দেওয়া হবে। যদিও সবকটি প্রশ্নের একটাই উত্তর, ‘ না ‘। কারণ আমাদের কোনো কর্মী বাবা আধিকারিক এই ঘটনার পেছনে যুক্ত নয়।
