নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ভোর হতেই ঝাঁটা হাতে গ্লাভস ( Gloves ) পরে রোজ বের হতে হয় কৌশিক দলুই, সুরেশ যাদব, রাজকুমার মিশ্রদের। শহরে রাস্তা পরিষ্কার কিংবা জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ করেন তারা। টানা পরিশ্রমের পর শেষবেলায় বাড়ি ফেরা। উৎসব-অনুষ্ঠানের সময় কাজ আরও বেড়ে যায়। কাজের চাপ বাড়ে, কিন্তু মজুরি বাড়ে না! এরা কলকাতা পুরসভায় ( Kolkata Municipal Corporation ) শহুরে রোজগার যোজনা ( ১০০ দিনের কাজ ) প্রকল্পের কর্মী।
গত দশ বছরে লাগামছাড়া বেড়েছে আলু, পেঁয়াজ থেকে পেট্রোলের দাম। দশ বছরে বেড়েছে জীবনধারণের সব খরচই। অথচ গত সাত বছর ধরে জড়বস্তুর মতোই স্থির, নিশ্চল একশো দিনের কর্মীদের মজুরি! তিন বছর আগে মজুরি বেড়েছিল গড়ে ৫৮ টাকা। সেটা শেষবার। তারপর কথা হয়েছিল মজুরি পারবে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে আশ্বাস মিলেছিল। কিন্তু বাড়েনি। কলকাতা পুরসভার ( KMC ) ১০০দিনের কাজ প্রকল্পের কর্মী এখন প্রায় ২৫ হাজার।
শহরের জঞ্জাল সাফাইয়ের যে বিরাট কর্মকাণ্ড তার সিংহভাগ এখন এঁদের উপরই নির্ভরশীল। স্থায়ী সাফাইকর্মীরা মাসিক বেতন পান ২০-২৫হাজার টাকা। সেখানে প্রায় সাত বছর ধরে ১০০টি রোজে একই কাজ করে এসেছেন বকুল দাস, হারাধন লোহারের মতো কয়েক হাজার কর্মী। বছর তিন আগে মাত্র ৪৪ টাকা মজুরি বাড়ায় বর্তমানে তাঁদের রোজ দাঁড়িয়েছে ১৪৪টাকা। তাও প্রতি মাসে ২৬ দিনের টাকা পান। করোনাকালে জীবন বাজি রেখে কাজ করতে হয়েছে তাঁদের।
১০০দিনের কাজে ( 100 Day Work Project ) তিন ধরনের কর্মী আছেন। দক্ষ কর্মীদের দৈনিক মজুরি ১৬৭টাকা থেকে ৭৩টাকা বেড়ে এখন ২৪০টাকা হয়েছে। অদক্ষ কর্মী যাঁরা মাঠে নেমে কাজ করেন তাঁদের ১০০টাকা মজুরি ছিল, ৪৪টাকা বেড়েছে। আর এমন কর্মীদের কাজ দেখার জন্য ছোট ছোট গোষ্ঠীর মাথায় একজন করে সুপারভাইজার থাকেন তাঁরা এখন পান ১৭২টাকা। তাঁদের মজুরি বেড়েছে ৫২টাকা। তবে নেই কোনও সামাজিক সুরক্ষা বা কাজের নির্দিষ্ট সময়। তবু কাজে এক চুল ফাঁকি দেননি তাঁরা।
কিন্তু, এই নামমাত্র মজুরিতেও কালঘাম ঝরিয়ে শহর পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে। তাঁদের দিকে ফিরেও তাকাইনি সরকার, আক্ষেপ এই কর্মীদের। জঞ্জাল সাফাই এমন কর্মী রামেশ্বর যাদব বলেন, রোজ কত রকমের নোংরা তুলতে হয়। প্রথম দিকে তো মাস্ক, গ্লাভস ঠিকঠাক পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দিয়েছে। সান্ত্বনা হিসাবে বছরখানেক আগে জুটেছে স্বাস্থ্যসাথীর ( Swasthya Sathi ) একটি কার্ড।
কিন্তু টাকাটা বাড়লে খুব ভালো হয়। স্থায়ী কর্মীর সমান কাজ করতে হয় আমাদের। নামমাত্র মজুরিতে সংসার চলে না। বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান আছে। এই কাজ করে তাই আমাদের ফের অন্য কাজ করতে হয়। আপাতত সরকার কবে প্রসন্ন হয় সেই আশা নিয়েই বাঁচতে হচ্ছে তাঁদের।
