রানার ডেস্ক : যুদ্ধ ও বিভিন্ন কারণে নিজের দেশ ছেড়ে ইউরোপে আনশ্ৰয়প্ৰাথী শরণার্থী নারীরা নিয়মিত যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমনকী মাত্ৰ ১০ ইউরোর বিনিময়ে তাঁদের যৌনমিলনে বাধ্য করা হচ্ছে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। জোর করে নামানো হচ্ছে বেশ্যাবৃত্তিতে।এঁদের অধিকাংশই মুসলিম শরণার্থী।মূলত সিরিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া থেকে আগত। এঁরা অত্যন্ত সুন্দরী এবং এই রূপ তাঁদের সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক প্ৰতিবেদনে বলা হয়েছে, জাৰ্মানির শরণার্থী আশ্ৰয়কেন্দ্ৰগুলোতে ধর্ষণ ও যৌন নিৰ্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বাডেন-উইয়েরটেমবাৰ্গ প্ৰদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে অন্তত ছয়টি ধৰ্ষণের ঘটনার প্ৰমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জাৰ্মানির এক মানবাধিকার সংগঠন। এ ছাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে নিয়ে গিয়ে যৌনপেশায় জড়িত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে অনেক।
মানবাধিকারকমী গেজেল হেগ বলেছেন, ‘অসহায় মহিলাদের নিয়ে এসব কুকীর্তি হচ্ছে প্ৰশাসনের নাকের ডগায়। কিন্তু কেউ কিছু করছে না। এই ওষায় যুবতীদের যেন দেখারই নেই কেউ। এঁরা যেন যৌনপুতুল।’ কিটজিনজেন শহরের একটি শরণার্থী কেন্দ্ৰে এক নারী সাফাইকর্মী ১০দিন নিয়মিত ধর্ষণ ও যৌন নিৰ্যাতনের শিকার হওয়ার পর পুলিসের কাছে অভিযোগ করেছেন।
ওই সাফাইকর্মী জানান, ওই ক্যাম্পে তাঁকে ১০ দিন ধরে তাঁর ওপর যৌন নিৰ্যাতন করা হয়েছে। কৰ্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর সেখানে শুধু পুরুষ সাফাইকর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। এতেও সমস্যা মেয়েদেরই। কেননা তাঁরা চাকরি হারাচ্ছেন। যুদ্ধবিদ্ধস্ত সিরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে জীবন বাচাতে ও উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশী শরণার্থীর সংখ্যা যে কোন সময়ের চাইতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এসব শরণার্থীর প্রথম পছন্দ জার্মানি। পশ্চিম ইউরোপে শরণার্থীদের ক্রমবর্ধমান প্রবাহ নিয়ে শুরু হয়েছে সংকট। অভিবাসন প্রত্যাশীদের রুট নিয়ন্ত্রণে ক্রোয়েশিয়া ও স্লোভেনিয়া কঠোর হওয়ার ফলে উত্তেজিত গোটা ইউরোপ। মাঝেমধ্যেই দল বেঁধে শরণাথীরা সীমান্ত পাড়ি দেন সাইকেল চালিয়ে। আর মাত্ৰ একশো মিটারের কিছুটা বেশি পথ সাইকেল চালিয়ে এসে নরওয়েতে ঢুকেই তাঁদের একটি আবেদন করতে হয় আশ্ৰয়ের জন্যে।
একই সাথে ফেলে দিতে হয় সাইকেলটিও। এভাবে অনেক বাইসাইকেল সেখানে পরিত্যক্ত হয়ে যায়। দু’একদিন পর পর ট্ৰাকে করে সেগুলো আবার সরিয়ে নেন কৰ্তৃপক্ষ। শরণাথীদের জন্যে নতুন এ পথটি আস্তে আস্তে জনপ্ৰিয় হয়ে উঠছে। কারণ এখানে সহজেই অনুমতি মিলছে নরওয়ের কৰ্তৃপক্ষের দিক থেকে। রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশ্বসংকট ও দুর্যোগ বিষয়ক সেন্টার রিলিফ ওয়েব ‘ভয়েস ফ্রম সিরিয়া’ নামক একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এই প্রতিবেদনে সিরিয় নারীদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ১৫৮ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন দেশটির বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরগুলোতে নারী, কিশোরী ও আরো কমবয়সের মেয়েদের ওপর যৌন হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির বিবরণ দিয়ে ভর্তি। আলেপ্পোর মেয়েদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ জায়গা হচ্ছে ওই শিবিরগুলো। বেশির ভাগ সময় ত্রাণ বা সহায়তা দেওয়া হয় যৌনসংসর্গের বিনিময়ে।
দামেস্কের নিকটবর্তী গ্রাম কাফর বাতনা’র এক কিশোরীর দেওয়া সাক্ষ্য অনুসারে, একবেলা খাবার পাওয়ার বদলে ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে বিছানায় শুতে হয়। দু’টি দাতব্য সংস্থা স্বীকার করেছে, তারা এরকম যৌনসংসর্গের ঘটনার বিষয়ে অবগত। তারা জানিয়েছে, এরকম কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ত্রাণকর্মীদের তারা বরখাস্ত করে দিয়েছে।
আলেপ্পোর নারীরা ত্রাণ প্যাকেজগুলোর ওপর নির্ভর করেফ জীবন যাপন করে। তাই অনেক যুবতী এরকম যৌনমিলনে অংশ নিলেও সে বিষয়ে অভিযোগ করে না পাছে খাবারদাবার বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সমাজের চোখে কলঙ্কিত হওয়ার ভয়ও কাজ করে।
