রানার ডেস্ক : সারা ইউরোপেই মুসলিমরা নির্যাতিত। বিশেষ করে মেয়েদের অবস্থা তো খুবই খারাপ। ব্ৰিটেনেও তার কোনও ইতরবিশেষ হয় না। পথেঘাটে অকারণে নাকাল হন মেয়েরা। তাই আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে মুসলিম নারীদের কিকবক্সিং শেখাচ্ছেন মুসলিম এক মহিলা কিকবক্সার। তাঁর নাম খাদিজা সাফারি। মাৰ্শাল আৰ্টে ব্ল্যাক বেল্টের অধিকারী তিনি।
প্ৰচুর মুসলিম নারী তাঁর কাছে এই কিকবক্সিং শিখতে আসছেন। তাঁরা বলছেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই তাঁরা ব্রিটেনের যে কোনও জায়গায় শ্বেতাঙ্গ তথা খ্রিস্টান হামলার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। আর সে-কারণেই তাঁরা ডল বেঁধে বক্সিং শিখতে আগ্ৰহী হয়েছেন।
খাদিজা সাফারি তাঁর এই অভিনব ভাবনা সম্পর্কে বলেছেন, ‘ব্রিটেনে আমরা রাস্তাঘাটে নানা নির্যাতনের শিকার। তাছাড়া মুসলিম নারীদের সম্পৰ্কে বেশিরভাগ মানুষেরই একটি প্ৰচলিত ধারণা রয়েছে যে তাঁরা শুধু বাড়িতে রান্নাবান্না আর ধোওয়ামোছার মতো গৃহস্থালি কাজেই ব্যস্ত থাকেন, এসবই শুধু পারেন। আমাকেও তাঁরা সে-রকম একজন মহিলার মতোই মনে করেন। কিন্তু এটা তাঁদের একটি ভ্ৰান্ত ধারণা। আমি আদৌ সে-রকম নরম ধাঁচের নই। আমি শক্তিশালী মাৰ্শাল আর্ট জানি, সেটাই এখন অন্য মেয়েদের শেখাই।’
মুসলিম যুবতীদের মূলত থাই বক্সিং শেখান খাদিজা। তিনি জানান, ‘এই মেয়েরা যখন বাইরে ঘুরে বেড়ান তখন খুব একটা স্বস্তিবোধ করেন না। তাঁরা যখন মাথায় স্কাৰ্ফ পরে কিংবা বোরখা পরে এখানে সেখানে যান প্ৰায়শই তাঁরা শ্বেতাঙ্গ তথা খ্রিস্টান পুরুষদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। এটা তো চলতে দেওয়া যায় না। তাই আমি এই পথ নিয়েছি।’
এমনই একজন ছাত্ৰী, মাথায় হিজাব পরে আছেন তিনি, দেখতে অসাধারণ সুন্দরী, কিন্তু কঠোর নিয়ম মেনে বক্সিং শিখছেন তিনি। শিখতে শিখতেই বলছিলেন, ‘স্কাৰ্ফ পরার জন্য রাস্তাঘাটে আমাকে অনেকবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছহে। অনেক অপমানজনক কথা শুনতে হয়েছে। এমনকী অনেকে এমনও বলেছেন যে আমি নাকি বোমা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছি।’
আরেক নরমসরম মুসলিম যুবতী জানান, ‘অপমান অবমাননা থেকে বাঁচার জন্য এই কিকবক্সিং আমাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। নোংরা সব মানুষজন যখন আগে আমাকে দেখে চিৎকার করে মুসলিম বলে অপমান করত, আজেবাজে কথা বলত, তখন আমি অনেকবার কান্নায় ভেঙে পড়েছি। তখন আমি বুঝতে পারতাম না কী করতে হবে। কাঁদতে কাঁদতে আমি রাস্তা থেকে দৌরে এসে ঘরের ভেতরে গিয়ে সেঁধিয়ে যেতাম।‘
খাদিজার প্রতি শ্রদ্ধা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এসব অপমানের পর এমন হতো যে আর বাইরে যেতে চাইতাম না। কিন্তু এখন আমি আর সে-রকম মনে করি না। এখন যদি কেউ আমাকে কোনও খারাপ কথা বলে, যৌন ইংগিত করে, তাহলে তাকে উচিত শিক্ষা দেবো আমি।‘ এদিকে খাদিজা সাফারি বলেছেন, ‘এটা এমন এক শিক্ষা যার মাধ্যমে মুসলিম নারীরা আত্মবিশ্বাস আর সাহস ফিরে পেয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা শিখেছেন বিপদের সময় নিজেদের রক্ষা করার কৌশলও। এখন ঢিল মারলে পাটকেল খেতে হবেই।‘
