সুপারস্টার ব্রিটনিকে জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ খাওয়াতেন বাবা

|

রানার প্রতিবেদন : বিশ্বখ্যাত পপতারকা ব্ৰিটনি স্পিয়াৰ্সের ( Britney Spears ) জীবন নিয়ে বিতৰ্ক কম নেই। বলা যায় ব্ৰিটনি মানেই বিতর্ক। তবে দীৰ্ঘদিন মুখ বুজেই ছিলেন ব্ৰিটনি। এবার নিজের বাবার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তিনি। জড়িয়ে পড়লেন আরেক বিতর্কে। আড়াল ভেঙে আদালতের শুনানিতে অংশ নিলেন পপতারকা। প্রায় ১৩ বছর জানালেন, তিনি নিজের মতো করে বাঁচতে চান। ফিরে চান মুক্ত জীবন। এ সময় বিচারক ব্রেন্ডা পেনিকে তিনি জানান, বাবা তাঁকে ১০ লাখ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেন।

এটা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। ব্ৰিটনির অভিযোগ, প্ৰায় ১৩ বছর ধরে জীবনযাত্ৰা ও আৰ্থিক সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্ৰণ করছেন তাঁর বাবা জিমি। মাৰ্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ( USA ) কনজারভেটরশিপ আইনের ( Conservatorship Law ) অধীনে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল জিমিকে। এবার বিচারকের কাছে আৰ্জি জানিয়ে এই বন্দি দশা থেকে মুক্তি চাইলেন ব্ৰিটনি। ব্ৰিটনি জানিয়েছেন, যত দ্ৰুত সম্ভব এই অপমানজনক বন্দিজীবন শেষ করতে চান তিনি। এই অবস্থা তাঁর মন ভেঙে দিয়েছে ও তিনি দাসত্ব অনুভব করছেন ।

এই প্ৰথম খোলা আদালতে তাঁর বাবা ও যাঁরা তাঁকে নিয়ন্ত্ৰণ করছেন, তাঁদের প্রবল নিন্দা করেছেন ব্ৰিটনি। তিনি আরও জানান, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে জন্মনিয়ন্ত্ৰক ওষুধ ( Birth Control Pill ) খেতে বাধ্য করেন তাঁর বাবা। এমনকী প্ৰেমিকাকে বিয়ে করতে ও আরেক সন্তান নিতেও তাঁকে বাধা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। লিথিয়াম সেবনে বাধ্য করা হয়েছে তাঁকে, যা তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

লস এ্ঞ্জেলেসের ( Los Angeles ) আদালতের বিচারক ব্রেন্ডা পেনিকে ব্ৰিটনি বলেছেন, তিনি মানসিকভাবে বিপৰ্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং দিনের পর দিন কেঁদেছেন। তিনি তাঁর মুক্ত ও সাংগীতিক জীবন ফিরে পেতে চান। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই কনজারভেটরশিপ ভালোর চেয়ে তাঁর জন্য খারাপই বেশি করছে। তাঁরও স্বাভাবিক জীবন কাটানোর অধিকার আছে, কারণ উপার্জন তো তিনিই করেছেন । এমনকি তাঁর বাবা ব্ৰিটনিকে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে লং ড্ৰাইভে যাওয়ারও অনুমতি দেন না।

প্ৰসঙ্গত, ২০০৮ সালে আদালতের এক আদেশে ব্ৰিটনির বাবা জিমিকে যাবতীয় সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। জেমি স্পিয়ার্স ( Jamie Spears ) ব্ৰিটনির উপার্জনের ৬ কোটি ডলার সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পান। সে-সময় উদ্বেগ ও অবসাদের কারণে হাসপাতালে ভৰ্তি হতে হয়েছিল ব্ৰিটনিকে। তখন তেরো বছর আগে কনজারভেটরশিপের রায় দিয়েছিল মাৰ্কিন আদালত।

আদালতের পক্ষ থেকে এখনও কোনও রায় দেওয়া না হলেও বিশ্বজুড়ে ‘ফ্ৰি ব্ৰিটনি’ হ্যাশট্যাগে ছেয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। ব্ৰিটনির দাবি, তাঁর বাবা তাঁর ওপর অত্যধিক নিয়ন্ত্ৰণ করে তাঁর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। ব্ৰিটনির প্ৰাক্তন প্রেমিক জাসটিন টিম্বারলেকও আরও অনেকের মতো ব্ৰিটনিকেই সমৰ্থ জানিয়েছেন। টুইটে লিখেছেন, ‘ওর সঙ্গে যা হচ্ছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। কোনও মহিলা তাঁর শরীর নিয়ে কী করবেন সেই সিদ্ধান্ত তাঁর বাবা নিতে পারেন না।’

আরও পড়ুন