রানার ডেস্ক : হলিউডের জনপ্ৰিয় পরিচালক রব কোহেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন ইতালিয়ান অভিনেত্ৰী এশিয়া আর্জেন্টো। সম্প্ৰতি ইতালিভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে স্বভাবতই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে এশিয়া অভিযোগ করেন, ‘ফাস্ট অ্যাণ্ড ফিউরিয়াস’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় কোহেন তাঁকে হেনস্তা করেন এবং যৌন উত্তেজক পানীয় জিএইচবি পানে বাধ্য করেন।
তিনি জানান, ‘সে সময় আমি জানতাম না আমার সঙ্গে কী করা হতে চলেছে। পরদিন সকালে আমি কোহেনের বিছানায় নিজেকে বিবস্ত্ৰ অবস্থায় পেয়েছিলাম। তাতেই বূঝে যাই আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। ‘তবে কোহেনের পক্ষ থেকে তাঁর মুখপাত্ৰ জানান, এশিয়ার যৌন হয়রানির অভিযোগ সম্পূৰ্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্ৰান্তিকর। তাঁর মতে, কোহেন ও এশিয়ার মধ্যে কাজের খাতিরে একটা সুন্দর সম্পৰ্ক রয়েছে, এমনকি কোহেন তাঁকে বন্ধু মনে করেন।
তাই এই অভিযোগ বিভ্ৰান্তিকর। যদিও তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। এশিয়া বরং এই ধর্ষণের বিচার চেয়েছেন। এর আগেও কোহেনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ উঠেছিল। এর মধ্যে একটি আবার তাঁর নিজেরই কন্যার। কোহেনের মেয়ে ভালকিরি ওয়েদার অভিযোগ করেছিলেন, তিনি যখন শিশু ছিলেন তখন তাঁর উপর যৌন নিৰ্যাতন করেছিলেন তাঁর বাবা।
বাবা হয়ে যদি মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন করতে পারেন, তাহলে এশিয়ার সঙ্গে কী ঘটেছে তা বোঝাই যায়। সম্প্রতি যৌন হয়রানি করার দায়ে বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা অ্যান্ডি ডিককেও একটি ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ছবির কয়েকজন ছোট চরিত্রের কিশোরী অভিনেত্রীর শরীরের আপত্তিকর নানা স্থানে স্পর্শ করতেন বলে অভিযোগ এসেছে।’এক্স ম্যান’ সিরিজের পরিচালক ব্রিট রটনারও ভদ্রলোক নন।
এখন পর্যন্ত ছয়জন নারী তাঁর বিরুদ্ধে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ এনেছেন। এর মধ্যে আছেন ‘এক্স ম্যান’ তারকা অলিভিয়া মুনের মতো অভিনেত্রীও। অস্কারজয়ী নির্মাতা হার্ভি ওয়াইনস্টিন তো সবার ওপরে। হার্ভির যৌন কেলেঙ্কারির খবর প্রথম ফাঁস করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দ্য নিউ ইয়র্কার পত্রিকা। হলিউডের অনেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী থেকে শুরু করে উঠতি মডেলরা তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।
এরপর থেকেই মূলত সাহস করে এগিয়ে আসেন অন্য ভুক্তভোগীরা। তাঁরাও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। এঁদের মধ্যে অনেকে হার্ভির দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।নবাগতরা ছবির জন্য যখন অডিশন দিতে যান তখন নানাভাবে প্রযোজক ও পরিচালকদের লালসা ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে পরে মুখ খোলেন আবার কেউ-বা একেবারে চেপে যান।
তেলুগু অভিনেত্ৰী শ্ৰী রেড্ডি বিষয়টি নিয়ে ভীষণভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন এবং তাঁর প্ৰতিবাদ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তেলুগু ফিল্ম চেম্বার অব কমাৰ্সের বাইরে প্ৰায় নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। যা এক কথায় বলতে গেলে নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকেই।নিজের ব্যাপারে তিনি খোলাখুলি জানান, ‘জোর করে যৌন সম্পৰ্ক স্থাপন করতে বাধ্য করা হয়েছিল আমাকে।
সেই লোকটি আমাকে যখন ডিওতে আসতে বলে, আমি বলেছিলাম ছবির ব্যাপারে কথা বলার জন্য আমি যেতে পারি, কিন্তু তার বেশি কিছু নয়। কিন্তু যাওয়ার পরেই জোর করে যৌন সহবাস করা হয়, যাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। ‘শ্ৰী তাই স্টুডিওগুলিকে ব্যাখ্যা করেছেন নবাগতাদের জীবন নষ্ট করার জায়গা হিসাবে।
সেখানে বড় বড় পরিচালক, প্ৰযোজক, হিরো কেউই এই নষ্টামি করতে ছাড়ে না। আর জায়গাটাও অপকৰ্মের জন্য নিরাপদ, কেননা চট করে কেউ ভিতরে ঢুকে যেতে পারবে না। পুলিশ বা সরকারও বিষয়টাকে কোনও বড় ইস্যু হিসাবে দেখবে না, কেননা কুকীর্তি যারা করে তারা সব রাঘব বোয়াল।
