আবার গোল্ডেন পাম, ৪৫ বছর পর ফের কানে যাচ্ছেন স্বপ্ন সুন্দরী জোডি

|

রানার ডেস্ক : তিনি ছিলেন একদা বিশ্বের কোটি কোটি যুবকের স্বপ্নসুন্দরী। কিন্তু শুধু শরীরী আকর্ষণ, উত্তেজক বিভঙ্গ দিয়েই নয়, অভিনয়েও তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন। এ-বছরের কান চলচ্চিত্র উৎসবের ( Cannes Film Festival ) আসর উদ্বোধন করবেন সেই হলিউড ( Hollywood ) অভিনেত্রী জোডি ফস্টার ( Jodie Foster )। এছাড়া চলচ্চিত্রে তাঁর গৌরবময় অবদান রাখার জন্য সারা জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে দেওয়া হবে সম্মানসূচক গোল্ডেন পাম ( Golden Palm )। ১৯৭৬ সালে ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ কানে প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গায় পাওয়ার সুবাদে জোডি কানে প্রথমবার পা রাখেন।

এই মুভিতে এক কিশোরী বেশ্যার ভুমিকায় ভুবনকাঁপানো অভিনয় করেছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। মার্টিন স্করসেসির ছবিটি গোল্ডেন পাম ( Golden Palm ) জেতে। ঠিক ৪৫ বছর পর আবার গোল্ডেন পাম নিতে কানে যাচ্ছেন জোডি। এ-প্রসঙ্গে উৎসবের জেনারেল ডেলিগেট থিয়েরি ফ্রেমো বলেছেন, জোডি ফস্টার ( Jodie Foster ) এমনই এক বিরল অভিনেত্রী জিনি বারবার নিজেকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন। জোডির দৃষ্টিই যেন কথা বলে।

তিনি সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন বারবার। একজন পরিচালক হিসেবেও তিনি অনন্যা। আমাদের জন্য তিনি এক মহামূল্যবান ব্যক্তিত্ব। আমরা আনন্দের সঙ্গে তাঁকে এই সম্মান জানাচ্ছি।’ কানে ইতোপূর্বে জোডির সাতটি ছবির প্রদর্শনী হয়েছে। এগুলোতে হয় তিনি পরিচালক ছিলেন, নয়তো অভিনয় করেছেন। ২০১৮ সালে কানে প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে প্রদর্শিত ‘বি ন্যাচারাল: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব অ্যালিস গি-ব্লেশি’ প্রামাণ্যচিত্রের ধারাভাষ্য দিয়েছেন জোডি।

পৃথিবীর প্রথম নারী নির্মাতা ফ্রান্সের অ্যালিস গি-ব্লেশির জীবনকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল এই তথ্যচিত্র। জোডি অর্ধশত ছবিতে অভিনয় করেছেন। চারটি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন। পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রী বিভাগে দুটি অস্কার ( Oscar )। ১৯৮৯ সালে ‘দ্য অ্যাকিউসড’ এবং ১৯৯২ সালে ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’ ছবির জন্য এই দুটি অস্কার তিনি জয় করেন। রবার্ট ডি নিরো, অ্যান্থনি হপকিন্স, মেল গিবসন, ডেনজিল ওয়াশিংটনসহ বহু প্রথমসারির নায়কের নায়িকা হয়েছেন তিনি।

ডেভিড ফিঞ্চার, রবার্ট জেমেকিস, স্পাইক লি, অ্যালান পার্কার, ক্লদ শ্যাবরলের মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন। সম্মানসূচক গোল্ডেন পাম নিয়ে জোডি নিজে দারুণ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেছেন, ‘কানের প্রতি আমি অনেক ঋণী। আমার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে কান। খুব কিমি. বয়সে এখানে আমার প্রথমবার আসার সময়টা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কানে নিজের পরিচালিত ছবি প্রদর্শন করব, এই স্বপ্ন ছিন বহুদিনের।

আমি ধন্য যে বেশ কয়েকবার আমি সেই সুযোগ পেয়েছি। সত্যি বলতে কী, কান এমন একটি চলচ্চিত্র উৎসব যেখানে যোগ্য শিল্পীদের সম্মান করা হয়। কান যে আমাকে যোগ্য মনে করেছে তাতে আমি যারপরনাই খুশি।‘ উল্লেখ্য, কানের সম্মানসূচক গোল্ডেন পাম পেয়ে থাকেন চলচ্চিত্র দুনিয়ার সেরারাই। এ-পর্যন্ত সম্মানটি পেয়েছেন ফরাসি অভিনেত্রী জ্যঁ মরো, অভিনেতা জ্যঁ-পিয়ের লিউ, জ্যঁ পল বেলমুন্দু, আলেন দ্যুলো, পরিচালক আনিয়েস ভারদা, ইতালিয়ান বার্নার্দো বার্তোলুচি, হলিউড অভিনেত্রী জেন ফন্ডা, পর্তুগিজ পরিচালক মানোয়েল দ্যঁ অলিভেরা প্রমুখ। সেই তালিকায় নাম উঠল অনিন্দ্যসুন্দরী জোডিরও।

আরও পড়ুন