শুভেন্দুকে নেতা মানতে সমস্যা ? মুকুলকেও গুরুত্বপূর্ন পদ দেবার কথা ভাবছে দল

|

রানার ডেস্ক : সাম্প্রতিক কালে নিজের এবং স্ত্রীর অসুস্থতা জনিত কারণে নিজেকে চারদিক থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন মুকুল রায় ( Mukul Roy )। যৎসামান্য যা মুখ খুলেছেন তাতে রাগ-ক্ষোভ ঝরে পড়ছে মুকুলের। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, দলীয় নেতৃত্বের ওপর কোনও কারণে রেগে আছেন মুকুল রায়। এনিয়ে দলের দুই অংশের দুটি ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। এক, মুকুল এখন বিজেপিতে আর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন না।

ফলে নিজের পুরনো দল তৃণমূলে ফেরাই ঠিক মনে করছেন। ইতিমধ্যে তৃণমূল থেকে আসা বেশকিছু বিজেপি নেতা আবার ফিরে যেতে চাইছেন তৃনমূলে। এদের দলে ফেরৎ আসার আগ্রহ দেখে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না তৃণমূলের একাংশ নেতা। অথচ বিস্ময়ের হলো, মুকুল নিয়ে তারা চুপ। এমনকি সৌগত রায় ( Saugata Roy ) প্রকাশ্যেই বলেছেন, বাকিদের সঙ্গে মুকুলকে গুলিয়ে ফেললে হবে না। ওর বিষয়টা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা উচিত দলের।

ইঙ্গিত স্পষ্ট, মুকুলের জন্য দরজা খোলা। দ্বিতীয় ব্যাখ্যা, মুকুল দীর্ঘদিন ধরেই দলে নিজেকে উপেক্ষিতই মনে করেছিলেন। ভোটের আগে হৈচৈ পরে পরে গিয়েছিল, তার দল বদলের খবরে। মুকুলকে ধরে রাখতে তৎপর হয় বিজেপি ,এবং তাকে কেন্দ্রীয় সহ সভাপতির পদ দিয়ে সেই যাত্রায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এবার? এবার নাকি মুকুল প্রচন্ড ক্ষুব্ধ বিরোধী দল নেতার পদ থেকে তাকে বঞ্চিত করায়। বিজেপিতে শুভেন্দুর থেকে সিনিয়র এবং পদ অনুযায়ী এগিয়ে মুকুল।

সাংগঠনিকভাবে তৃণমূলেও শুভেন্দুর ( Suvendu Adhikari ) মাথার ওপরেই ছিলেন মুকুল। সুতরাং বিধানসভায় শুভেন্দুর নেতৃত্বেই এখন কাজ করতে হবে মুকুলকে। এই ঘটনা পোড় খাওয়া নেতার সম্মানে যথেষ্ট আঘাত দিয়েছে, এনিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ফলে দিলীপ ঘোষের ( Dilip Ghosh ) নার্সিং হোম ছুটে যাওয়াকে কটাক্ষ করা কিংবা মঙ্গলবার বৈঠকের বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা প্রকাশ করা, এসবই তার বর্তমান মানসিক অবস্থার প্রতিফলন।

এই পরিস্থিতিতে মুকুলের মান ভঞ্জনের উপায় নিয়ে দলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুটো বিকল্প এখন খোলা দলের সামনে। এক মুকুলকে বিধানসভার পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করা। এই পদটি নিয়ম মেনে বিরোধীরা পায়,এবং পদটি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদ মর্যাদার। নতুবা বিধানসভায় ইস্তফা দিয়ে মুকুল যদি রাজ্যসভায় গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে পারেন।


আরও পড়ুন : তৃণমূলে ফিরে ওরা আবার কুকুরের মতো বাঁচতে চায়, বিস্ফোরক সৌমিত্র


পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদে দলের অনেকে বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিরিকে বসানোর পক্ষে সওয়াল করছেন। অশোক লাহিড়ী শুধু অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ নন, তিনি ভারত সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। সেক্ষেত্রে মুকুল রায়কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হলে হয়ত সমস্যার সমাধান করা যাবে। আপাতত একাধিক বিকল্প নিয়ে ভাবছে দিল্লি নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন