নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ( Ballygunge Circular Road ) ইনস্টিটিউট অফ আরবান ম্যানেজমেন্ট বা আইইউএম। এটা কলকাতা পুরসভার ( Kolkata Municipal Corporation ) বিভিন্ন বিভাগের কর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ( Staff Training Center )। কিন্তু, প্রায় বছর খানেক ধরে বন্ধ কর্মী প্রশিক্ষণ। একদিকে করোনা-লকডাউন, অন্যদিকে নানা ধরনের সরকারি কর্মসূচিতে চূড়ান্ত ব্যস্ততা, সব মিলিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রশিক্ষণ নেওয়ার লোকের সময় নেই।
ফলে এই সরকারি অফিস কার্যত ফাঁকা পড়ে।কর্মী মহলের একাংশের অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে আগে বছরভর যেমন ট্রেনিং হত, গত কয়েক বছর ধরেই কমে গিয়েছে। ঠিকঠাক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। কী ধরনের ট্রেনিং হয়? জানা যাচ্ছে, নতুন চাকরি পাওয়া ক্লার্ক, জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংবা হেলথ ওয়ার্কাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং চলে সারা বছর ধরে। কিন্তু বর্তমানে অবস্থা তথৈবচ। নামকাওয়াস্তে ট্রেনিং সেন্টার।
একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং দুজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সারাদিন বসে থাকেন। পুর কর্তৃপক্ষ বলছে, গত মার্চ থেকে শুরু হয়েছে করোনা ( Corona )। তারপর লকডাউন। সেই সঙ্গে ভোটের আগে নানা ধরনের সরকারি কর্মসূচির চূড়ান্ত ব্যস্ততা ছিল। ফলে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় পাওয়া যায় নি। যদিও কর্মী মহলের একাংশের অভিযোগ, লকডাউন বা করোনাকালে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়নি এটা ঠিক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঠিকঠাক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না।
নতুন চাকরিপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ বাদ দিয়ে বিভিন্ন বিভাগীয় যে ধরনের ট্রেনিং দেওয়ার কথা তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সেখানে কর্মীদের কম্পিউটার ট্রেনিং দেওয়ার জন্য প্রায় ৬৫টি কম্পিউটার রয়েছে। সেগুলিও পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। গতবছর ট্রেনিং দেওয়া যায়নি তা অবশ্য স্বীকার করেছেন সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজি দেবাশিস কর। তবে তার আগে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনিং বন্ধ তা অবশ্য মানতে রাজি নন তিনি। দেবাশিসবাবু বলেন, করোনা এবং লকডাউনে ট্রেনিং করার মত পরিস্থিতি ছিল না।
তবে তার অনেক আগে থেকেই ঠিকঠাক প্রশিক্ষণ হয় না, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। এখানে বিশেষ করে নতুন চাকরি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ট্রেনিং হয়। এবছর স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু ইন্টারভিউ এবং ট্রেনিং হয়েছে। বাকি নানাবিধ কাজের চাপে আধিকারিকরা ব্যস্ত। যাঁরা ট্রেনিং নেবেন, তাঁরাও চূড়ান্ত কর্মব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন। ফলে বিভিন্ন বিভাগীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া বা নেওয়ার সময় নেই।
ভোটের কারনেও অনেক কিছু করা যায়নি। তারপর আবার লকডাউন শুরু হয়েছে। তবে এবার লকডাউন শেষ হলে জুলাই মাস থেকে ট্রেনিং দেওয়া শুরু হতে পারে বলেই জানিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
