নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কলকাতার রাস্তায় পার্কিং লটে ( Parking Lot ) গাড়ি রাখতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া অভিযোগ ওঠে হামেশা। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি পার্কিংয়ের অভিযোগ ভুরি ভুরি। এবার পার্কিং লটের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরেও দেদার গাড়ি পার্কিং করিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছে একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে। গোটা বিষয়টি নজরে এসেছে কলকাতা পুরসভার ( KMC )। কলকাতা পুলিসে ( Kolkata Police ) জানানো হচ্ছে।
কলকাতা শহরের পুরসভার নথিভূক্ত পার্কিং লটের সংখ্যা ১৪৭টি। বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সি এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী এগুলি দেখাশোনা করে। কলকাতা পুরসভা বাইক, চার চাকা থেকে শুরু করে বড় গাড়ির ঘণ্টাপ্রতি রেট (rate) বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু, তার পরেও পার্কিং সংস্থাগুলি তোলাবাজি করে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং এজেন্সির কর্মীদের বিরুদ্ধে পুরসভার ধার্য্য করা ফি থেকেও থেকে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ আসে।
বিশেষ করে বড়বাজার, পোদ্দার কোর্ট, পার্কস্ট্রিট ( Park Street ), আলিপুর ( Alipure ) থেকে বেশি অভিযোগ আসে। তবে এবার আরও বড়সড় দুর্নীতির হদিস মিলেছে। পুরসভার নজরে এসেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা পার্কিং লটের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরেও তাদের কর্মীরা সংশ্লিষ্ট পার্কিং লট থেকে টাকা তুলছে। এজেন্সি বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি এক বছর বা তিন বছর বা ছয় বছররের জন্য দায়িত্ব পায়। সম্প্রতি একাধিক এজেন্সি লকডাউনের বাজারে ক্ষতি সামলাতে না পেরে মাঝপথে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে।
৭টি এজেন্সি দায়িত্ব ছেড়েছে বলে খবর পুরসভা সূত্রে। এখানেই শেষ নয়। এরা চুক্তি ভাঙার পিছনে কারণ হিসেবে ব্যবসায় ক্ষতি রোধ দিচ্ছে। কলকাতা পুরসভার পার্কিং বিভাগের এক শীর্ষকর্তা বলেন, আচমকা ছেড়ে দিলে সেখানে নতুন সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে গেলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। ওই জায়গায় নতুন কেউ না আসা পর্যন্ত আগের মতোই দেদার পার্কিং ফি আদায় করছে প্রাক্তন এজেন্সি। পার্কিং ফি বাবদ আয়ের সব টাকাই ঢুকছে সংস্থার পকেটে।
কলকাতা পুরসভার কানাকড়িও জুটছে না। কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা, কোনও সংস্থা টেন্ডারে অংশ নিয়ে পার্কিং লটের দায়িত্ব নিলে তাকে আগেই ‘কসান মানি’ জমা রাখতে হয়। চুক্তি মাঝ পথে ভঙ্গ করলে সেই টাকা জরিমানা হিসেবে পুরসভার কেট নেয়। কিন্তু, নতুন টেন্ডার (Tender ) করতে সময় লাগে। সেই সুযোগের ফায়দা লুটছে এরা।
তবে আমরাও পুলিসকে জানিয়ে দিচ্ছি। কলকাতা পুরসভার পার্কিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য দেবাশিস কুমার জানান, কেউ দায়িত্ব ছেড়ে দিলে আমরা পুলিসকে জানিয়ে রাখি। ওখানে হোডিং টাঙিয়ে দেওয়া হবে। এটাও এক ধরনের বেআইনি পার্কিং। তাই, সেই মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
