শোভন-বৈশাখীর ভুলেই বাকি তিন বিপাকে, নতুন ঘুঁটি সাজাচ্ছে সিবিআই

|

রানার ডেস্ক : বাড়িতে যেতে পারবেন, আদালতের রায় শুনেই এক লাফে দাঁড়িয়ে পড়লেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, জোরাজুরি শুরু করলেন বাড়ি ফিরে যাবার জন্য। চিকিৎসকরা চটজলদি তাকে হাসপাতালে থেকে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিনি। কেন ছাড়া হচ্ছে না, এনিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বৈশাখীও।

তিনি চান, আদালত যখন বাড়িতে থাকতে বলেছে, তখন গোলপার্কের বাড়িতেই ফিরে যাওয়া হবে উপযুক্ত পদক্ষেপ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যেভাবে রত্না এবং তারা ছেলে মেয়ে শোভনকে ঘিরতে শুরু করেছিল এখানে, সেই পরিস্থিতিতে এক মুহূর্ত নিজের বলয়ের বাইরে রাখাটা ঝঁকিপূর্ন হয়ে যাচ্ছিল বৈশাখীর জন্য।

এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালে রীতিমতো এনিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে ফেললেন শোভন। জেল হেফাজতে থেকে কেই সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন ? আইনের চোখে এটা একদিকে যেমন বিস্ময়কর অন্যদিকে গুরুতর অপরাধও বটে। শোভন না হয় ভুল করেছেন কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গ্রেফতার হওয়া এই নেতার জন্য যে নিরাপত্তা কর্মীরা ছিল, তারা কেন বাঁধা দেননি।

নাকি, প্রাক্তন তৃনমূল নেতা ও সাবেক মেয়রকে কিছু বলার হিম্মত করে উঠতে পারেননি তারা। সেইসঙ্গে গুঞ্জন, শোভন তৃনমূলে ফিরছেন, এই বার্তাই কি পুলিশকে দূরে থাকতে বাধ্য করলো? উঠছে সেই প্রশ্ন। গ্রেফতার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন সুব্রত মুখার্জি, শোভন চ্যাটার্জি এবং মদন মিত্র। ফিরহাদ হাকিম কিন্তু সেই ফাঁদে পা দেননি।

আরও পড়ুন : কোনও সন্তানই অবাঞ্ছিত নয়, অবাঞ্ছিত মনে হলে বাক্সে ফেলে দিন

পাছে সিবিআই প্রভাবশালীর তত্ত্ব দার করায় সেহেতু তিনি প্রেসিডেন্সি জেলে থাকাই উপযুক্ত মনে করেন। এতে লাভও হয়েছে তার। বাকিরা অসুস্থতা দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে জামিন পেয়েই বাড়ি ফিরতে সংকটে পড়েছেন, কারন আগামী দিনে সিবিআই আদালতকে এটাই বলবে, অসুস্থতা ছিল নাটক।

জেলের ভাত এড়াতেই সব গিয়ে আস্তানা গেড়েছিল এসএসকেএম-এর উডবার্ন ইউনিটের স্বাচ্ছন্দের ঘেরাটোপে। একমাত্র ফিরহাদই পত্রপাঠ ফিরতে পেরেছেন বাড়িতে। শোভন জোর করেই ফিরে গেছেন বৈশাখীর সঙ্গে। বাকি দু’জন এখনো কম্বলমুড়ি দিয়ে পরে আছেন হাসপাতালে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, শোভনের মতো চটজলদি বাড়ি ফিরে গেলে সিবিআই আদালতে বলবে, এরা সব অসুস্থতার নাটক করছিল।

আরও পড়ুন : শাহরুখের মুখে কাজলের নিন্দা? হ্যাঁ এটাই বাস্তব, তারপরই অবিশ্বাস্য ঘটনা

অন্যদিকে চিকিৎসকরাও চাপে আছেন। কারন এরা সত্যি অসুস্থ নাকি নাটক, তা পরীক্ষা করতে দিল্লির এইমস থেকে পাঁচ সদস্যের এক মেডিক্যাল টিম আনছে সিবিআই। তারাই প্ৰকৃত সত্য খতিয়ে দেখবে। যদি দেখা যায়, এরা আদৌ ভর্তি হবার মতো অসুস্থ ছিলেন না, তাহলে চাপে পড়বেন চিকিৎসকরাও।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সিবিআই আদালতে এটাই বলবে, তৃণমূলের সরকার এখানে ক্ষমতায় আছে বলে, পুলিশ থেকে চিকিৎসক সব মহলের অন্যায় সাহায্য নিচ্ছেন অভিযুক্তরা। নইলে অসুস্থ না হওয়া সত্বেও যেমন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যায়, তেমনি পুলিশের নাকের ডগার সামনে জেল হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন।

আরও পড়ুন : বিয়ে নিয়ে পারিবারিক সংকটে পড়েছেন অর্জুন

সুতরাং এদের প্রভাব অনস্বীকার্য। এদের জামিন দেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ন তেমনি এরাজ্যের প্রশাসনিক বলয়ের মধ্যে রেখে এদের সঠিক বিচারও সম্ভব নয়। একারণেই পশ্চিমবঙ্গের বাইরে, নিরপেক্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বলয়ের মধ্যেই সম্ভব চাপমুক্ত তদন্ত এবং বিচার। অর্থাৎ বাংলার বাইরে নিয়ে যাবার জন্য এখন যুক্তির জাল বুনছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সেই জাল নির্মাণের উপযুক্ত কাঁচামাল গতকালই সরবরাহ করে দিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন