কোনও সন্তানই অবাঞ্ছিত নয়, অবাঞ্ছিত মনে হলে বাক্সে ফেলে দিন

|

রানার প্রতিবেদন : বাৰ্লিনের একটি হাসপাতাল। ঢুকতেই চোখে পড়বে একটি লেখা বেবিহ্যাচ। তির চিহ্ন দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে কোথায় সেই বেবিহ্যাচ বা ইস্পাতের তৈরি বাক্স, যেখানে একজন মা তাঁর অবাঞ্ছিত সন্তানকে রেখে যেতে পারেন। যেসব মা কোনও কারণে তাঁদের সন্তান পালন করতে চান না, তাঁরা চাইলে জন্মের পরপরই বাচ্চাকে বেবিহ্যাচেতে রেখে আসতে পারেন।

এই বাক্সে নবজাতক রেখে আসার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালাৰ্ম বেজে ওঠে। তখন সেবিকারা দু-তিন মিনিটের মধ্যেসেখানে উপস্থিত হয়ে বাচ্চার দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে নেন। আর ওইটুকু সময়ের মধ্যে মা-ও বাচ্চাকে রেখে চোখের আড়ালে চলে যেতে পারেন। জাৰ্মানিতে এমন ১০০টি বেবিহ্যাচ রয়েছে। এরপর হাসপাতাল কতৃপক্ষ আট সপ্তাহ পৰ্যন্ত নবজাতকের দেখভাল করেন।

এই সময়ের মধ্যে কোনও মা তাঁর ইচ্ছা পরিবৰ্তন করে সন্তানকে ফিরিয়ে নিতে না এলে, দত্তক নিতে আগ্রহী কোনও পরিবারের কাছে বাচ্চাকে দিয়ে দেওয়া হয়। বাৰ্লিনের ওই হাসপাতালে এভাবে গত ১৩ বছরে ২০টিরও বেশি শিশু রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জাৰ্মানিতে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর অন্যান্য দেশেও সেটা শুরু হয়েছে। তবে ইতিহাস বলছে, মধ্যযুগেও এমন ব্যবস্থা ছিল।

ঊনবিংশ শতাব্দী পৰ্যন্ত সেটা বলবৎ ছিল। জাৰ্মানির চাৰ্চগুলো এ ব্যবস্থা সমৰ্থন করলেও এর বিরোধী অনেক পক্ষ রয়েছে। টের ডেজম নামক একটি বেসরকারি সংস্থা দীৰ্ঘদিন ধরে বেবিহ্যাচের ঘোর বিরোধী। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা নবজাতকের মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে পারেনি। তাদের দাবি, যেসব মা নবজাতককে পরিহার করার মতো চিন্তা করতে পারেন, তাঁরা যে মানসিক অবস্থায় ওই চিন্তাটা করতে চান, তখন বেবিহ্যাচ খোঁজার মতো অবস্থা তাঁদের থাকে না।

রাষ্ট্ৰসংঘও এই ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছিল, এর মাধ্যমে শিশুদের তাদের ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এসব সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জাৰ্মান সরকার বেবিহ্যাচের পরিবৰ্তে অন্য আরেকটি ব্যবস্থার প্রস্তাব করে নতুন একটি আইনের খসড়া উপস্থাপন করেছে।

আরও পড়ুন