আর কয়েক মাস, পুজোর পরই সড়তে হবে দিলীপকে, চলছে বিকল্পের সন্ধান

|

রানার ডেস্ক : আক্ষরিক অর্থেই দলটাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। একটা সময় এই রাজ্যে বিজেপি আর দিলীপ ঘোষ যেন ছিলেন সমার্থক। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে যখন তাকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন এই রাজ্যের মানুষের কাছে তিনি সম্পুর্ন অপরিচিত। সেই মানুষটাই কয়েক মাসের মধ্যে দিকবিদিকে গেরুয়া ঝড় তুলেই জানান দিলেন বিজেপি এসে গেছে।

তিনি দায়িত্ব নেবার মাস চারেকের মধ্যে চলে এলো বিধানসভা ভোট। তখনও ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি রাজ্য গেরুয়া শিবির। সেবারই প্রথম তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোট বাধে বাম ও কংগ্রেস। ফলে কার্যত তৃতীয় শক্তি হিসাবেই ১৬ নির্বাচনে নামে বিজেপি, আসনও জোটে সাকুল্যে তিনটি। ভোটে বাম-কংগ্রেস মুখ থুবড়ে পড়ায়, হতাশা তৈরি হয় তৃনমূল বিরোধী শিবিরে।

এই জায়গাটা দখল নিতেই সুকৌশলে ঝাঁপিয়ে পড়েন দিলীপ ঘোষ। চোষে ফেলতে শুরু করেন কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ। আগুনঝরা ভাষণে সংক্রমিত হতে থাকে শাসক বিরোধী বিপুল জনগোষ্ঠী। ১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচন, যা আক্ষরিক অর্থেই ছিল প্রহসন, সেই প্রহসনের মধ্যেও গেরুয়া ধজ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি প্রমান করেছিল, আগামীদিনে লড়াইটা হতে যাচ্ছে তৃনমূল বনাম বিজেপি।

দলকে প্রস্তুত করেন ১৯ এর লোকসভা ভোটের জন্য। সাফল্যের যে রসায়ন তৈরি করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি, সেই সাফল্য ঝুলিতে পোরার জন্য তেল-জল খাওয়া মেশিনের মতোই দলকে মাঠে নামাতে পেরেছিলেন দিলীপ ঘোষ। সাফল্য মানেই তার ভাগিদারও জুটে যাওয়া এবং কলহের সূত্রপাত। এই ভবিতব্য নিয়েই দলের গোষ্ঠী কোন্দল বাড়তে শুরু করলো।

আরও পড়ুন : নজিরবিহীন বিশ্ব রেকর্ড, মৃত্যু ভয় বুকে চেপে ৫০ বছরের জেল যাপন

কিন্তু সব জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে দিলীপ ঘোষকেই দ্বিতীয় বারের জন্য সভাপতির দায়িত্ব দিল দিল্লি। ১৮ সালের ডিসেম্বরেই তার প্রথম দফার মেয়াদ শেষ হলেও, লোকসভা ভোটের জন্য সভাপতি নির্বাচন পিছিয়ে যায়। লোকসভা ভোট চুকে যাবার পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কলকাতায় সর্বসম্মতিতে দিলীপ ঘোষকেই দ্বিতীয় বারের জন্য বেছে নেয়া হয় রাজ্য সভাপতি পদে।

দলীয় সংবিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি টানা দুবারের বেশি সভাপতি পদে থাকতে পারেন না। দিলীপ ঘোষকেও এবার ছাড়তে হবে সভাপতির চেয়ার। তিন বছর করে দুবারের মেয়াদ অনুযায়ী ছয় বছর পূর্ণ হলেই পদ ছাড়তে হবে তাঁকে। এবছর ডিসেম্বরেই মেয়াদ পূর্ন হচ্ছে দিলীপ ঘোষের। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, নতুন সভাপতি বেছে নেবার জন্য যাবতীয় তৎপরতা শুরু হবে দুর্গা পূজার পর।

আরও পড়ুন : কোনও সন্তানই অবাঞ্ছিত নয়, অবাঞ্ছিত মনে হলে বাক্সে ফেলে দিন

লাখ টাকার প্রশ্ন হলো কে হবেন পরবর্তী সভাপতি? সূত্রের খবর অনুযায়ী, দলীয় নেতৃত্ব করা নজর রাখবে বিধানসভায় দলীয় বিধায়কদের পারফরমেন্সের ওপর। অনেক সময় যুক্তি ও বাগ্মিতায় সকলের নজর কেড়ে নেন কোনো কোনো বিধায়ক। যদিও দলের একটা অংশের মত, সভাপতি কে হবেন, সেটা মূলত নির্ভর করবে কেশব ভবনের ওপর।

দিলীপ ঘোষকে কেউ চিনতো না, আরএসএস-এর এই প্রচারক সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই সকলের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিলেন। তেমনি আরএসএস-এর ঝুলিতে এরকম একাধিক ব্যক্তি আছেন যাদের দায়িত্ব দিলে, তারাও সাফল্যের সঙ্গে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

আরও পড়ুন : আপনি একা? ঘুরে আসুন স্বপ্নের দুনিয়া থেকে, রোমান্স-যৌনতা-পর্যটন একই প্যাকেজে

তবে দলের অন্দরে সার্বিক মত হলো, যিনিই দায়িত্ব নিন, তাকেই পড়তে হবে কঠিনতম চ্যালেঞ্জের সামনে। কারন তার নেতৃত্বেই হয়ত পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং লোকসভার ভোটে লড়তে হবে দলকে। সুতরাং নতুন নেতা যেন , সকলকে নিয়ে চলার মতো মার্জিত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং সুবক্তা হন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন